হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া নিয়ে ইরানের দেওয়া সাতটি শর্তের কয়েকটি যুক্তরাষ্ট্র মেনে নিয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারি মোহসিন রেজায়ি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রতিক্রিয়াকে এখনো যথেষ্ট মনে করছে না তেহরান।সোমবার (১২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় রেজায়ি এ দাবি করেন। এ বিষয়ে এএনআইয়ের প্রতিবেদনে তথ্য জানানো হয়েছে।রেজায়ি তাঁর বার্তায় বলেন, ইরানের সাতটি শর্তের কয়েকটিতে যুক্তরাষ্ট্র সম্মতি জানিয়েছে। তবে ইরানের বিবেচনায় এই সম্মতি পর্যাপ্ত নয়। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের কূটনৈতিক অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে এবং আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছিলেন, ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সাতটি শর্ত পূরণ করতে হবে। শর্তগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার অবস্থানের কথাও জানান তিনি।
গালিবাফের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি একজন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ইরানের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। তবে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি তেহরান।আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে দেশটির তেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয় রয়েছে। এসব শর্ত পূরণ হলেই হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং আলোচনা শুরু করার বিষয়ে ইরান সম্মত হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত মাসে চলমান সংঘাত বন্ধে আলোচনার উদ্যোগের অংশ হিসেবে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাতটি শর্ত পাঠিয়েছিল ইরান বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালী। এ পথের নিরাপত্তা ও চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে প্রভাব পড়তে পারে।তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্তগুলোর কোন কোনটি মেনে নিয়েছে, সে বিষয়ে রেজায়ির বক্তব্যে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।












