সর্বশেষ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দ্বিমুখী পরীক্ষার মুখে বিএনপি: নিরপেক্ষতা রক্ষা ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাই প্রধান লক্ষ্য

মোঃ মাইনুল ইসলাম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। একদিকে সরকার হিসেবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়া, অন্যদিকে মূল রাজনৈতিক দল হিসেবে অভ্যন্তরীণ কোন্দল সামাল দিয়ে একক প্রার্থী নিশ্চিত করা—এ দুইয়ের মাঝেই নিজেদের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দক্ষতা প্রমাণের কঠিন পরীক্ষায় নামতে হচ্ছে দলটিকে।

​গত সোমবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) সারা দেশের প্রায় ৪,৩০০ ইউপিতে পাঁচ ধাপে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে ২৭ মে পর্যন্ত এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সরকারের অবস্থান: গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে ‘জিরো টলারেন্স’প্রশাসন ও সরকার নিশ্চিত করেছে যে, নির্বাচনে কোনো প্রকার দলীয় বা সরকারি প্রভাব থাকবে না। মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম স্পষ্ট জানিয়ে দেন:’সরকার ও প্রশাসন নির্বাচনে বিন্দুমাত্র হস্তক্ষেপ করবে না। সব প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করে আন্তর্জাতিক মানের ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এই নির্বাচন নিয়ে সরকার কোনো কলঙ্ক বহন করতে রাজি নয়।”

বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে কোনো প্রার্থীর অসদুপায় বা প্রভাব বিস্তারের দায় শেষ পর্যন্ত সরকারের ওপরই বর্তাবে। তাই কেবল বিজয় অর্জন নয়; বরং একটি নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর নির্বাচন সম্পন্ন করাই বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

​অভ্যন্তরীণ বিভাজন সামলানো ও শৃঙ্খলা রক্ষা”স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকলেও কেন্দ্রের নির্দেশনায় বিএনপির পক্ষ থেকে একক সমর্থিত প্রার্থী দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি সম্প্রতি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে নির্ধারিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন।

কুমিল্লা সীমান্ত থেকে দুই পুলিশ সদস্যকে ধরে নিয়ে গেল বিএসএফ

​তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র যথেষ্ট জটিল। প্রতিটি ইউনিয়নে বিএনপির একাধিক জনপ্রিয় নেতা চেয়ারম্যান পদের জন্য শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন; কোথাও কোথাও প্রার্থীর সংখ্যা ১০ থেকে ১২ জন।

​এই বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় আদর্শের পাশাপাশি সামাজিক ও পারিবারিক নানা সমীকরণ কাজ করে। ফলে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং। তবে কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছি।”

​অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা: স্তরভিত্তিক প্রার্থী বাছাই ব্যবস্থা’গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ৭৮টিরও বেশি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীর উপস্থিতি দলটিকে কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলেছিল। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিশেষ কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।

​প্রার্থী নির্বাচনে স্বজনপ্রীতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের (এমপি) অপ্রয়োজনীয় প্রভাব ঠেকাতে স্তরভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে:ইউপি চেয়ারম্যান পদ: প্রার্থী বাছাই ও বিরোধ নিষ্পত্তির দায়িত্ব উপজেলা নেতাদের।

জলবায়ু অভিঘাতে অর্থনীতি, রূপান্তরের কেন্দ্রে থাকতে চায় বেসরকারি খাত

​উপজেলা পরিষদ পদ: জেলা পর্যায়ের নেতৃত্ব দায়িত্ব পালন করবেন।​সার্বিক তদারকি: বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা সমন্বয় করবেন এবং প্রয়োজনে শীর্ষ নেতৃত্ব হস্তক্ষেপ করবে। রাজনৈতিক গুরুত্ব ও মাঠপর্যায়ের প্রত্যাশা:রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,স্থানীয় সরকার নির্বাচন মূলত তৃণমূল পর্যায়ে দলের মূল ভিত্তি এবং সরকারের প্রশাসনিক সক্ষমতার একটি বড় অগ্নিপরীক্ষা। এই নির্বাচন যদি সত্যিই নিরপেক্ষ ও সহিংসতামুক্ত করা সম্ভব হয়, তবে তা দেশে গণতান্ত্রিক চর্চা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় নতুন ইতিবাচক অধ্যায় সূচনা করবে।

​একদিকে সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া সুনাম বজায় রাখা, আর অন্যদিকে তৃণমূলের সুদৃঢ় ঐক্য বজায় রেখে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করা—বিএনপির জন্য এখন উভয় পরীক্ষাতেই সফল হওয়ার সময়ের দাবি।

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

দৈনিক আমাদের খবর একটি বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদ ও জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো নির্ভুলতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

×

নিউজ কার্ড প্রিভিউ (HTML Version)

News Image
১৬ অক্টোবর ২০২৬
Trulli

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দ্বিমুখী পরীক্ষার মুখে বিএনপি: নিরপেক্ষতা রক্ষা ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাই প্রধান লক্ষ্য