কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্তকের অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে দেশের প্রথম সারির একটি গণমাধ্যমের সংবাদিক আলী জামসেদকে আটক করার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুর প্রায় ১টার দিকে নিকলী হাসপাতাল মোড় এলাকায় একটি দোকানে বসে থাকা অবস্থায় আলী জামসেদকে আটক করেন নিকলী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্ত। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, এসিল্যান্ড প্রতীক দত্তের নানা অনিয়ম নিয়ে সাংবাদিক আলী জামসেদসহ আরো কয়েক সাংবাদিক কয়েকটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার জাতীয় নয়া দিগন্ত পত্রিকায় এক মুক্তিযোদ্ধার নাতি রিকশাচালককে মারধর করেছেন এবং ৩৬ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে স্থানীয় খাস জমি থেকে উচ্ছেদে নোটিশ দিয়েছেন—এ মর্মে এসিল্যন্ড প্রতীক দত্তের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে প্রতীক দত্ত ক্ষিপ্ত হোন।
স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, এর আগেও প্রতীক দত্তের দুর্নীতি নিয়ে খবর প্রকাশ হয়েছে। পূর্বের সংবাদ প্রকাশের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় হাসপাতাল মোড়ে একটি দোকানে বসে থাকা অবস্থায় আলী জামসেদকে আটক করেন প্রতিক দত্ত। আটকের সময় তাকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম শেষে নিকলী থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
কিশোরগঞ্জ সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এসকে রাসেল বলেন, “বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করলেই প্রশাসনের দুর্নীতিগ্রস্ত কিছু ব্যক্তিদের টার্গেটে পরিণত হয় সাংবাদিকরা। এর ফলে নিজেদের অপরাধ ডাকতে ও স্বাধীন সাংবাদিকতায় হস্তক্ষেপ করতে নানা ধরনের ফন্দি করে। দৈনিক নয়া দিগন্তের নিকলীর প্রতিনিধি জামসেদ এসিল্যান্ডের আক্রোশের শিকার। তাকে আটকের ঘটনায় কিশোরগঞ্জ সাংবাদিক ফোরামসহ আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”
অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিয়ে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ নিকলীর এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্ত করার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে নিকলী উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্তকের সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, “উনাকে যখন গাড়ির কাগজপত্র দেখাতে বলা হয়েছিল, উনি বলে উনার গাড়ির কাগজপত্রই নাই, নাম্বার প্লেটও নাই। সম্ভবত আমরা যেটাকে টানা গাড়ি বলতে বুঝি, সেরকম একটা গাড়ি উনি ব্যবহার করছিলেন। ড্রাইভিং লাইসেন্স চাওয়া হয়েছে, উনি দেন নাই।”
তিনি আরও বলেন, “দোষ স্বীকার করলে হয়তোবা আমি জরিমানা করে বিষয়টা ছেড়ে দিতে পারতাম। দোষ স্বীকার করে নাই বরং উনি আমার সাথে একেবারে যাচ্ছেতাই ব্যবহার শুরু করেছেন রাস্তার মাঝখানে। এবং দোষ স্বীকার না করলে সেক্ষেত্রে মোবাইল কোর্টে আর কোনো জরিমানা বা সাজা দেওয়ার সুযোগ নেই, যেহেতু উনি দোষ স্বীকার করেন নাই, তখন উনাকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।”
এ বিষয়ে নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, “ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে পুলিশ আলি জামশেদকে কিশোরগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল আদালতের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আদালত তাকে জেলা কারাগারে পাঠায়।”













