সর্বশেষ

মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে অবৈধ ড্রেজিং: প্রশাসনের নীরবতায় হুমকির মুখে জনবসতি

জেলা প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলায় যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ঘটনায় জনমনে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা ও দুর্বল নজরদারির সুযোগে প্রভাবশালী একটি চক্র দিনের পর দিন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ড্রেজিং কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের বাঘুটিয়া বাজার সংলগ্ন যমুনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চললেও কার্যকর কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। এতে করে যমুনা পাড়ের কয়েক শতাধিক ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সরাসরি নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, দৌলতপুর উপজেলার কথিত ‘রাহাতপুর বালু মহল’-এর ইজারাদার মোস্তাফিজুর রহমান প্রিন্সের লোকজন ইজারাকৃত নির্ধারিত এলাকা ছেড়ে কয়েক কিলোমিটার দূরে বাঘুটিয়া বাজার ও ইউনিয়ন পরিষদের অদূরে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। অভিযোগ রয়েছে, পেশিশক্তির প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, ফলে স্থানীয়রা ভয়ে কোনো প্রতিবাদ করতে পারছেন না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,অবৈধ ড্রেজিংয়ের কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করলে পুরো বাঘুটিয়া বাজার এলাকা ও আশপাশের বসতবাড়ি যেকোনো সময় বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এর আগেও মোস্তাফিজুর রহমান প্রিন্সের বিরুদ্ধে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। ওইসব কর্মসূচি কাভার করতে গিয়ে একাধিক গণমাধ্যমকর্মী প্রিন্স বাহিনীর সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে কয়েকটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আসে এবং তখন কয়েক দফা ভ্রাম্যমাণ আদালত ও অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বরিশাল চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের ১০ তলা থেকে পড়ে কলেজের হিসাবরক্ষকের মৃত্যু

তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযানের পর সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও প্রশাসনের নজরদারি শিথিল হতেই পুনরায় বাঘুটিয়া এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন শুরু হয়। এতে করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন,“অবৈধভাবে কোনো প্রকার বালু উত্তোলনের সুযোগ নেই। কোথাও অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—প্রশাসনের এমন আশ্বাসের পরও কীভাবে দিনের পর দিন প্রকাশ্যে জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে বালু উত্তোলন চলে? অবৈধ ড্রেজিং বন্ধ না হলে যমুনার ভয়াল ভাঙনে যে কোনো সময় বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। তারা দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

ডেঙ্গুতে একদিনে রেকর্ড ১০ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৯৯৬

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

দৈনিক আমাদের খবর একটি বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদ ও জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো নির্ভুলতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

×

নিউজ কার্ড প্রিভিউ (HTML Version)

News Image
১৬ জানুয়ারি ২০২৬
Trulli

মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে অবৈধ ড্রেজিং: প্রশাসনের নীরবতায় হুমকির মুখে জনবসতি