মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া এলাকায় যমুনা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন কোনোভাবেই থামছে না। দিনের পর দিন উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার বসিয়ে নির্বিঘ্নে বালু উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে শত শত বিঘা কৃষিজমি ও জনবসতিপূর্ণ এলাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নির্লিপ্ততা আর প্রভাবশালী একটি চক্রের সন্ত্রাসী তৎপরতায় পুরো এলাকা কার্যত অবৈধ বালুখেকোদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে,অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সরেজমিনে দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া বাজার ও এর আশপাশের চর বাঘুটিয়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, যমুনা নদীতে অন্তত দুটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব ড্রেজার পরিচালনা করছে রাহাতপুর বালু মহলের ইজারাদার মোস্তাফিজুর রহমান প্রিন্সের লোকজন।
তবে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো—বাঘুটিয়া বাজার ও চর বাঘুটিয়া এলাকা রাহাতপুর বালু মহলের নির্ধারিত সীমানা থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। আইন অনুযায়ী এই এলাকায় বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও সশস্ত্র পাহারায় নির্ভয়ে চলছে কার্যক্রম।
আইন লঙ্ঘনের স্পষ্ট প্রমাণ বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী ধারা ৪ ও ৫ অনুসারে ইজারাকৃত নির্ধারিত এলাকার বাইরে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ। একই আইনের ধারা ৬২ অনুযায়ী, অনুমোদন ছাড়া বালু বা মাটি উত্তোলনের দায়ে সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড,অথবা ৫০ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অথবা
উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে।
কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একই অপরাধ সংঘটিত হলেও দোষীদের বিরুদ্ধে কেবল নামমাত্র অভিযান চালিয়ে সামান্য অর্থদণ্ড করে দায়সারা দায়িত্ব পালন করছে প্রশাসন। সন্ত্রাস,জিম্মি ও সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগ,স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যমুনার এই নৌপথে চলাচলকারী বিভিন্ন বাল্কহেড ও নৌযানের মাঝি-মাল্লাদের প্রায়ই জিম্মি করে মারধর করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তথাকথিত “প্রিন্স বাহিনী।
এছাড়া বাঘুটিয়া এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে একাধিকবার মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয়রা। এসব কর্মসূচির সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নৌপুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ স্থানীয়দের অভিযোগ,পাটুরিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এ বিষয়ে চরম উদাসীন। এমনকি অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সখ্যতার অভিযোগও উঠেছে। ফলে যমুনার গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
প্রশাসনের বক্তব্য,এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিয়ান নুরেন গণমাধ্যমকে জানান, বিধি মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে।” তবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর ভাষ্য ভিন্ন। তাদের দাবি, এসব অভিযান কেবল লোক দেখানো, যার ফলে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
উপসংহার পরিবেশ ধ্বংস, নদীভাঙন, কৃষিজমি বিলীন হওয়া এবং জননিরাপত্তার মতো গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হলেও দৌলতপুরের বাঘুটিয়া এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেই। দ্রুত স্বচ্ছ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে যমুনা পাড়ের এই জনপদ অচিরেই ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে—এমন আশঙ্কাই করছেন সচেতন মহল।











