ফরিদপুর ও রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ এলাকায় পুনরায় সংঘবদ্ধভাবে অবৈধ বালু উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, আলম শেখ ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী শহীদ পালের নেতৃত্বে একটি সশস্ত্র চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসন ও আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে।
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২০ ও ২১ এপ্রিল দিন-রাতের বিভিন্ন সময়ে সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, ফরিদপুর সদর উপজেলার সিএন্ডবি ঘাট, ডিগ্রির চর, কলাবাগান এবং রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাট সংলগ্ন এলাকায় একাধিক উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার বসিয়ে পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এসব কার্যক্রম সশস্ত্র ব্যক্তিদের কঠোর পাহারায় পরিচালিত হচ্ছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে চরম ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিগ্রির চর ইউনিয়নের পদ্মা নদীর নর্থ চ্যানেল, কামারডাঙ্গী, কলাবাগান ও সিএন্ডবি ঘাট সংলগ্ন মোহনা এলাকায় দিন-রাত অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ঘটনা ঘটছে। অভিযোগ রয়েছে, চক্রটি সুসংগঠিতভাবে এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রশাসনিক নজরদারিকে উপেক্ষা করছে। এদিকে, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় এক স্থানীয় সাংবাদিকের ওপর পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় গুরুতর আহত ওই সাংবাদিক প্রায় তিন মাস ধরে ঢাকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনা সংশ্লিষ্ট চক্রের সহিংসতা ও প্রভাব বিস্তারের প্রবণতার দিকটি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। উল্লেখ্য, পদ্মা নদীর নির্দিষ্ট এলাকায় বালু উত্তোলনের ওপর মহামান্য হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী, নিষিদ্ধ এলাকায় বালু উত্তোলন দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে। এ বিষয়ে ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া জানান, পূর্বে অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দুটি ড্রেজার জব্দ করা হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সতর্ক করা হয়। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকার লিখিত অঙ্গীকার প্রদান করেছিলেন। তবে পুনরায় অবৈধ কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
আইন ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ বালু উত্তোলন নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত করে, তীরভাঙন বৃদ্ধি করে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। একই সঙ্গে এটি রাষ্ট্রীয় সম্পদের অবৈধ শোষণ এবং আইনের শাসনের প্রতি চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট এলাকার সচেতন মহল দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার, অবৈধ ড্রেজার অপসারণ এবং স্থায়ী মনিটরিং ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, হাইকোর্টের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করারও জোর দাবি উঠেছে।











