সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার জনতার ঘাট এলাকায় যমুনা নদীর বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) নির্ধারিত সরকারি চ্যানেলে বৈধ নৌযান চলাচলে বাধা প্রদান, বালুবাহী বাল্কহেড অবরুদ্ধ, ভাঙচুর ও মাঝিমাল্লাদের ওপর বর্বরোচিত হামলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি কুচক্রী মহলের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ জেলার বৈধ বালু মহলের ইজারাদারের আওতায় পরিচালিত ঢাকাগামী বালুবাহী বাল্কহেডগুলো চৌহালী উপজেলার জনতার ঘাট এলাকা অতিক্রমকালে একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যমুনা নদীর ওই অংশটি বিআইডব্লিউটিএ অনুমোদিত সরকারি নৌচ্যানেল হওয়া সত্ত্বেও স্থানীয় বিএনপি নেতা নামধারী জাহিদ মোল্লার নাম ভাঙিয়ে একদল অসাধু ব্যক্তি বাল্কহেড চলাচল বন্ধে হস্তক্ষেপ করছে।
বিশ্বস্ত স্থানীয় সূত্রের দাবি, সাধারণ এলাকাবাসীকে বিভ্রান্ত করে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে সরকারি নদীপথে বৈধ নৌযান চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায়ের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, এটি মূলত নদীপথে চাঁদাবাজির একটি সুসংগঠিত কৌশল।
হামলার শিকার একাধিক গুরুতর আহত মাঝিমাল্লা জানান, তারা সিরাজগঞ্জের বৈধ বালু মহল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রাকালে চৌহালী উপজেলার জনতার ঘাট এলাকায় পৌঁছালে শতাধিক লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও নৌযান (সেলো) নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় বাল্কহেডে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয় এবং মাঝিমাল্লাদের মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, অন্তত ১০-১২টি বাল্কহেড দীর্ঘ সময় ধরে জোরপূর্বক আটকে রেখে দাঙ্গা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয় এবং নৌযানগুলো অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরবর্তীতে আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
যমুনা নদীতে বিআইডব্লিউটিএ’র সরকারি চ্যানেলে বৈধভাবে চলাচলকারী বাল্কহেডের যাতায়াতে বাধা, মাঝিমাল্লাদের ওপর হামলা এবং দাঙ্গাসদৃশ পরিস্থিতি সৃষ্টির অভিযোগ প্রসঙ্গে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান,“বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। সামনে নির্বাচন রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের লক্ষ্যে প্রশাসন কাজ করছে।”
এ ঘটনায় নৌপথের নিরাপত্তা, সরকারি চ্যানেলে নির্বিঘ্ন নৌযান চলাচল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।











