দোহারের জন সভায় ডা. শফিকুর রহমান ও ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আপনারা বারবার অন্যদের সুযোগ দিয়েছেন, তাদের আমলনামা দেখেছেন। এবার একটিবারের জন্য আমাদের ওপর আস্থা রাখুন। আমাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে পরীক্ষা করুন, আমরা এই দেশকে কী দিতে পারি।” সোমবার ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সন্ধ্যায় ঢাকার দোহারে এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি। এই দেশের চাবি আমরা যুবকদের হাতে তুলে দিতে চাই। আমরা তারুণ্যের বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে কোনো আধিপত্যবাদ মেনে নেওয়া হবে না। আমরা ভাঙবো কিন্তু মচকাবো না।” এ সময় তিনি উপস্থিত যুবকদের হাত তুলে দেশ গড়ার শপথ নিতে বলেন এবং এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
রেমিট্যান্স যোদ্ধা ও প্রবাসীদের অবদানের কথা স্মরণ করে জামায়াত আমীর বলেন, “জুলাই বিপ্লবে প্রবাসীদের ভূমিকা জাতি আজীবন মনে রাখবে। তারা যখন রেমিট্যান্স বন্ধের ডাক দিয়েছিল, তখনই স্বৈরাচারের মসনদ ভেঙে খানখান হয়ে গিয়েছিল।” প্রবাসীদের জন্য তিনি কয়েকটি সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার করেন, প্রবাস গমনে অতিরিক্ত খরচ এবং বিমান ভাড়ার সিন্ডিকেট ভেঙে তছনছ করার ঘোষণা দিয়ে বলেন, বিদেশের মাটিতে কোনো প্রবাসী ইন্তেকাল করলে রাষ্ট্রীয় খরচে সম্মানজনকভাবে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি। প্রবাসীরা দেশে ফিরলে তাদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করা।
সংখ্যালঘু ও বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তিনি বলেন, “অতীতের মতো কারো ওপর অত্যাচার করার দিন শেষ। আমরা সব ধর্মের মানুষকে বুকে ধারণ করে বাংলাদেশ গড়বো।” তিনি আরও যোগ করেন, জামায়াত কোনো আকাশকুসুম বা দালানকোঠার রঙিন স্বপ্ন দেখায় না, বরং বাস্তবমুখী ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার চেষ্টা করে।
ডা. শফিকুর রহমান আস্থার সাথে বলেন, যারা আল্লাহকে ভয় করে দেশ পরিচালনা করবে, তাদের ওপর আল্লাহর রহমত নাজিল হবে। তখন এই দেশ আর ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে বিশ্বের দ্বারে দ্বারে ঘুরবে না, বরং দুনিয়ার দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।
জনসভায় ঢাকা ১ (দাহার-নবাবগঞ্জ) আসনের বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামি ও ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম ছাড়াও কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। তারা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে দেশ পরিবর্তনের মিছিলে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান।











