ফুল ফুটুক আর না-ই ফুটুক, আজ বসন্ত’। ফাগুন হাওয়ায় হৃদয়ে রঙের খেলা।যান্ত্রিক শহরের ধূসরতা ছাপিয়ে আজ প্রকৃতিতে লেগেছে মাতাল হাওয়া, আর মানুষের মনে ফুটেছে হাজারো ফুল। পঞ্জিকার পাতায় আজ পহেলা ফাল্গুন— ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন। রাজপথ থেকে শুরু করে পদ্মার পাড় পর্যন্ত দখল করে নিয়েছে বাসন্তী ও লাল রঙের ছটা।
এবারের উৎসবটি অন্য বছরের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন আবহে পালিত হচ্ছে। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দীর্ঘ রাজনৈতিক উত্তেজনা ও কর্মব্যস্ততা কাটিয়ে মানুষ এখন হাঁপ ছেড়ে বাঁচতে চাইছে। যান্ত্রিক জীবনের সেই ক্লান্তি আর কোলাহল পেছনে ফেলে দোহার-নবাবগঞ্জের মানুষ আজ শান্তির খোঁজে ফিরেছে প্রকৃতির কাছে। বসন্তের দখিনা বাতাসে যেন সব হানাহানি আর বিভেদ ধুয়ে মুছে যাচ্ছে।
বসন্তের প্রথম প্রহরে গানের কলিতে, নূপুরের ঝনঝনানিতে আর আবিরের ছোঁয়ায় একে অপরকে রাঙিয়ে দিচ্ছে সবাই। তবে এবারের উৎসবের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে দোহারের পদ্মা পাড় ঘেঁষে বয়ে যাওয়া রাস্তা, নারিশা ও ‘মিনি কক্সবাজার’ খ্যাত মৈনট ঘাট।
সকাল থেকেই বাসন্তী শাড়ি আর রঙিন পাঞ্জাবিতে সুসজ্জিত যুগলদের পদভারে মুখরিত মৈনট ঘাটের বালুকাবেলা। কোকিলের কুহুতান আর নদীর কলকল ধ্বনি মিলেমিশে একাকার। প্রিয় মানুষের হাত ধরে পদ্মার বিশালতার মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলছে বিনোদনপ্রেমীরা।
বিকেলের রোদ যখন ম্লান হয়ে আসবে, তখন বার্হ্রা, নারিশা কিংবা মৈনট ঘাটে তৈরি হবে এক স্বর্গীয় আমেজ। দিগন্ত বিস্তৃত পদ্মার বুকে রক্তিম সূর্য যখন ডুব দেবে, তখন প্রিয়জনের কাঁধে মাথা রেখে সেই সূর্যাস্ত দেখার দৃশ্যটি হবে অতুলনীয়। আজ যান্ত্রিক যানবাহনের কর্কশ হর্ন নয়, বরং বার্হ্রা, নারিশা কিংবা মৈনট ঘাটের বাতাসে ভেসে আসছে বাঁশির সুর আর প্রিয় মানুষের কানে কানে বলা কিছু অব্যক্ত কথা।
বসন্তের এই নির্মল হাওয়া যেন বিশ্বজুড়ে এক বড়ো বার্তা দিয়ে যাচ্ছে, ঘৃণা আর হানাহানি ভুলে আমরা যেন কেবল ভালোবাসতেই শিখি। ঋতুরাজের এই রঙিন আগমনি বার্তা সবার জীবনে বয়ে আনুক এক পশলা রোমান্টিক সুখ ও অনাবিল প্রশান্তি।











