সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলার জনতার ঘাট এলাকায় যমুনা নদীর সরকারি নৌচ্যানেলে বৈধ নৌযান চলাচলে বাধা ও হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে। এতে বৈধভাবে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানের নৌপরিবহন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠান মেসার্স এস কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের দাবি, গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে বালুবাহী কয়েকটি বাল্কহেড ছেড়ে যায়। জনতার ঘাট এলাকা অতিক্রমকালে একদল দুষ্কৃতকারী হঠাৎ নৌযানে হামলা চালায়।
হামলায় কয়েকজন মাঝি-মাল্লা গুরুতর আহত হন এবং নৌযানে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, হামলার পর থেকে প্রায় ১৫ দিন ধরে তারা উক্ত চ্যানেল ব্যবহার করতে পারছে না। ফলে দৈনন্দিন ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে এবং বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা সরকারকে শতভাগ ভ্যাট-ট্যাক্স পরিশোধ করে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে। তা সত্ত্বেও দুষ্কৃতকারীদের বাধার কারণে সরকারি নির্ধারিত চ্যানেল ব্যবহার করতে না পারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিরই প্রমাণ।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কিছু স্থানে জিও ব্যাগ ফেলার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে বৈধ নৌযান চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না—সে বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, চৌহালী উপজেলা নির্বাহী অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
তিনি জানান, উভয় পক্ষকে নিয়ে সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলের প্রশ্ন—সরকার নির্ধারিত চ্যানেলে বৈধ কাগজপত্রসহ চলাচলকারী নৌযান যদি দুষ্কৃতকারীদের হামলার শিকার হয় এবং দিনের পর দিন চলাচল বন্ধ থাকে, তবে দায় কার? দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ঘটনায় দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে মামলা বা গ্রেপ্তারের বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠান দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও নিরাপদ নৌযান চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি।











