দৌলতপুর ও শিবালয় উপজেলায় যমুনা নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলে প্রভাবশালী বালু দস্যু চক্র সশস্ত্র পাহারায় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার ব্যবহার করে অবৈধ বালু উত্তোলন করছে, যা হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা এবং পরিবেশ ও বিদ্যুৎ সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন।
মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলার চর বাঘুটিয়া ও শিবালয় উপজেলার মিরকুটিয়া ও তেওতা এলাকায় যমুুনা নদীতে জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের পিলারের সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, কয়েকটি প্রভাবশালী বালু দস্যু চক্র উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার ব্যবহার করে এবং সশস্ত্র পাহারার মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এসব এলাকায় কোনো বৈধ বালু মহল নেই এবং মহামান্য হাইকোর্ট ইতিমধ্যে এই অঞ্চলে বালু উত্তোলনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আইনগত বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এই কার্যক্রম নিম্নলিখিত আইনি বিধি লঙ্ঘন করছে:হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন – আদালতের আদেশ অমান্য করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘন – পিলারের সংলগ্ন অবৈধ খনন রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও মানুষের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। নদী ও পরিবেশ সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন –যমুনা নদীর তীরবর্তী পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। সশস্ত্র পাহারায় অপরাধী কার্যক্রম – স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের নজরদারির বিষয়।
প্রশাসনের দায়িত্ব অমান্য –উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রক্ষা হচ্ছে না।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিয়ান নুরেন এবং শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিষা রাণী কর্মকার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তারা সম্প্রতি বিষয়টি অবগত হয়েছেন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, প্রশাসনের দেরি ও তৎপরতার অভাবের কারণে এই অবৈধ বালু মাফিয়া চক্র দীর্ঘদিন এই কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে, যা পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং আইন-শৃঙ্খলার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।











