বরাবর,
জনাব মোস্তাফিজুর রহমান (মোস্তাক)
মাননীয় সংসদ সদস্য, ২৮কুড়িগ্ৰাম-৪
(রাজিবপুর, রৌমারী ও চিলমারী)
বিষয়: রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ সংস্কার ও জনবান্ধব প্রশাসন গড়ার লক্ষ্যে খোলা চিঠি।
জনাব, শুভেচ্ছা নিবেন। আমি মোঃ রাকিব হাসান, একজন গণমাধ্যম কর্মী। দৈনিক আমাদের খবর রাজিবপুর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্বরত থাকার পাশাপাশি রাজিবপুর উপজেলা বাসীর সুখ-দুঃখ ও অধিকারের কথা তুলে ধরার চেষ্টা করি।
২৮ কুড়িগ্ৰাম-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব লাভ করায় আপনাকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। বিপুল জনসমর্থন নিয়ে আপনি যে দায়িত্ব পেয়েছেন, তার প্রতি সম্মান রেখে রাজিবপুর উপজেলার সাধারণ মানুষের কিছু প্রাণের দাবি ও সংকটের কথা আপনার সামনে তুলে ধরছি।
মাননীয় সংসদ সদস্য, রাজিবপুবাসী একটি শান্ত, বৈষম্যহীন এবং দুর্নীতিমুক্ত রা দেখতে চায়। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত কিছু সমস্যা নিরসনে আপনার সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি:
১. ঘুষমুক্ত সরকারি সেবা: অফিস, আদালত ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হয়। দালালের দৌরাত্ম্য ও ঘুষ ছাড়া সেবা পাওয়া এখানে দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষ যেন হয়রানি ছাড়াই নিজ অধিকার আদায় করতে পারে, তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানাই।
২. থানা হোক আস্থার প্রতীক: রাজিবপুর থানা যেন সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গায় পরিণত হয়। নিরীহ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয় এবং আইনি সেবা পেতে কাউকে যেন অবৈধভাবে অর্থ খরচ করতে না হয়।
৩. চাঁদাবাজি ও দখলবাজি নির্মূল: ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের স্বস্তি বজায় রাখতে সকল প্রকার চাঁদাবাজি ও অবৈধ দখলদারিত্ব কঠোর হাতে দমন করা প্রয়োজন। একদল চলে গিয়ে আরেক দলের উত্থান—এই সংস্কৃতি থেকে আমরা স্থায়ী মুক্তি চাই।
৪. স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন: রাজিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ডাক্তারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং দরিদ্র রোগীরা যেন সরকারি ওষুধ ও সেবা সঠিকভাবে পায় সেদিকে নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।
৫. মাদক ও কিশোর গ্যাং নির্মূল: রাজিবপুরের তরুণ প্রজন্মকে বাঁচাতে মাদকের সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দেওয়া এবং ‘কিশোর গ্যাং’ কালচারের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা এখন সময়ের দাবি।
৬. উপজেলা,পৌরসভার জলাবদ্ধতা ও অবকাঠামো: সামান্য বৃষ্টিতে রাজিবপুর উপজেলার হাট বাজার সহ স্কুল কলেজ মাদ্রাসা সহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়, তা নিরসনে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং টেকসই রাস্তা নির্মাণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
৭. রাজিবপুর নৌকা ঘাটের শৃঙ্খলা: রাজিবপুর থেকে চিলমারী ঘাটে যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছি।
৮. কৃষি ও কৃষকের অধিকার: সার, বীজ ও কৃষি উপকরণ যেন প্রকৃত কৃষকরা সরাসরি ন্যায্য মূল্যে পায় এবং হাটে-বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমে, সেদিকে আপনার হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
৯. শিক্ষা ও যুব উন্নয়ন: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং অনৈতিক ‘কোচিং বাণিজ্য’ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছি।
১০. ডিজিটাল অভিযোগ বক্স: আপনার নির্বাচনী এলাকায় একটি ‘ডিজিটাল অভিযোগ বক্স’ বা হটলাইন নম্বর চালু করা, যেখানে মানুষ পরিচয় গোপন রেখেও তাদের সমস্যার কথা সরাসরি আপনাকে জানাতে পারবে।
১১. জনতার মুখোমুখি জনপ্রতিনিধি: জনগণের সাথে আপনার দূরত্ব কমিয়ে আনতে প্রতি ৩ মাস অন্তর অন্তর ‘জনতার মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করার প্রস্তাব করছি। যেখানে সাধারণ মানুষ সরাসরি তাদের সমস্যার কথা আপনাকে বলতে পারবে।
১২. রাস্তা ঘাট ও ব্রিজ : রাজিবপুর উপজেলায় এখনো অনেক মাটির (কাঁচা) রাস্তা আছে যে রাস্তা দিয়ে চলাচল করত অনেক কষ্টকর হয়ে পড়ে। সেই রাস্তার বিষয়ে নজর দিবেন ।
বিশেষ করে রাজিবপুর উপজেলার টাঙ্গালিয়াপাড়া খাজার ঘাটের ব্রিজ, কষ্টের কথা বলতেই চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে গড়িয়ে পড়ে।এই ব্রিজটি হলে রাজিবপুর উপজেলার সাথে কোদালকাটি ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক সুন্দর হবে ।
মাননীয় সংসদ সদস্য, আমরা এমন এক রাজিবপুর উপজেলা চাই যেখানে একজন সাধারণ রিকশাচালক থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা-সবাই বুক ফুলিয়ে নিজের অধিকারের কথা বলতে পারবে। রাজিবপুর উপজেলার কোন সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে সরকারি চাকরিজীবীদের ভয়ের মেঘ না থাকে, বরং আপনার নেতৃত্বে শান্তির সূর্য উদিত হয়। সাংবাদিক সমাজ সবসময় সত্যের পথে আপনার সহযাত্রী হয়ে থাকবে।
আপনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।
বিনীত,
মোঃ রাকিব হাসান
দৈনিক আমাদের খবর
রাজিবপুর উপজেলা প্রতিনিধি













