তীব্র জ্বালানি সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দোহার স্ফিলিং এন্ড সার্ভিস সেন্টার এ তেলের জন্য আজও দেখা গেছে গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন। ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা শেষে অনেককে ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ, ২০২৬) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভোর ৫টা থেকেই পাম্পের সামনে তেলের জন্য ভিড় করছেন মোটরসাইকেল চালক ও সাধারণ মানুষ। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বাইকার দীপঙ্কর বলেন, “আমি ভোর ৫:৩০টা থেকে লাইনে আছি। এখন সকাল ১০:৩০টা বাজে, কিন্তু এখনো পেট্রোল পাইনি। আদৌ পাব কি না, বা কখন তেল আসবে—তাও কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না।
জ্বালানি তেলের এই তীব্র সংকট ও দীর্ঘ লাইনের বিষয়ে কথা হয় সংশ্লিষ্ট পাম্পের ম্যানেজার জনাব মোস্তফা আহমেদের সাথে। তিনি জানান, পাম্পে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তারা বাইক বা গাড়ি সারিবদ্ধভাবে রাখার ব্যবস্থা করেছেন যাতে রাস্তায় যানজট তৈরি না হয়। তবে মূল সমস্যা চাহিদার তুলনায় জোগান অনেক কম হওয়া।
মোস্তফা আহমেদ বলেন, “একটি গাড়িতে আমাদের ৯০০০ লিটার তেল আসে, যা মাঝখানে পার্টিশন করা থাকে। প্রতিদিন আমরা লট হিসেবে মাত্র ৪৫০০ লিটার ডিজেল এবং ৪৫০০ লিটার অকটেন বা পেট্রোল পাচ্ছি। এই সামান্য পরিমাণ তেল দিয়ে বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। যা আসছে, তা মুহূর্তের মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।
জরুরি সেবাগুলোর বিষয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশ এবং সংবাদকর্মীদের (প্রেস) জন্য আমরা কিছু ইমার্জেন্সি তেল আলাদা রাখার চেষ্টা করি। কিন্তু সরবরাহের অনিশ্চয়তায় অনেক সময় তাদের জন্য জরুরি জ্বালানিটুকুও সংরক্ষণ করা সম্ভব হয় না।
পাম্প ম্যানেজার আরও জানান, শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বর্তমানে প্রতি মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার তেল দেওয়ার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী হেলমেট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির বৈধ কাগজপত্র যাচাই সাপেক্ষে তেল দেওয়া হচ্ছে। তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “এই কঠোর নিয়মগুলো পুরোপুরি অনুসরণ করলে দেখা যায় প্রায় ৯০ শতাংশ বাইকার তেল পাওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়বেন। তাই মানবিক ও ব্যবহারিক দিক বিবেচনা করে আমাদের নিয়মিত গ্রাহকদের তেল দিতে হচ্ছে।”
তেল সরবরাহের তদারকি নিয়ে তিনি জানান, তেল আসার পর সরকারি ‘ট্যাগ অফিসার’ উপস্থিত থেকে তা রিসিভ করেন। তাদের উপস্থিতিতেই তেলের মান ও পরিমাণ নিশ্চিত করে পাম্প থেকে তেল বিক্রি শুরু হয়।
এদিকে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে তেল না পেয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ।













