সর্বশেষ

শিবালয়ে অবৈধ বালু সন্ত্রাস হুমকিতে ফসলি জমি বসতবাড়ি ও জাতীয় গ্রিড টাওয়ার

স্টাফ রিপোর্টার

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের আলোকদিয়ারচর এলাকায় যমুনা নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সংঘবদ্ধ বালু মাফিয়া চক্রের অব্যাহত অবৈধ কর্মকাণ্ড এখন সরাসরি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর জন্য হুমকিতে পরিণত হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা এবং প্রযোজ্য আইনকে প্রকাশ্যে অমান্য করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ার সংলগ্ন এলাকা থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, টাওয়ারের অত্যন্ত নিকটবর্তী নদী অংশে ভারী ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনার ফলে নদীর তলদেশ অস্বাভাবিকভাবে গভীর হয়ে পড়েছে এবং স্রোতের গতিপ্রকৃতি পরিবর্তিত হয়ে তীব্র ভাঙন সৃষ্টি করছে।
এতে টাওয়ারগুলোর ভিত্তি মারাত্মকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যে কোনো সময় এই টাওয়ার নদীগর্ভে বিলীন হলে তা শুধু স্থানীয় নয়, বরং বৃহত্তর অঞ্চলের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থায় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

প্রশাসনের নাকের ডগায় যমুনায় অবৈধ বালু উত্তোলন ঝুঁকিতে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড কয়েক হাজার বসতভিটা

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এ অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনায় একটি সুসংগঠিত চক্র সক্রিয় রয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছে—আঃ রশিদ (পিতা: ফকির মাদবর), ইউনুস (পিতা: আঃ লতিফ), ষন্তস (পিতা: আঃ জলিল মোল্লা), আঃ মোতালেব (শহীদ বেপারি), আমিরুল (পিতা: আঃ রশিদ), মনোয়ার (পিতা: আঃ লতিফ), মঞ্জু মেম্বার (পিতা: আমজাদ), রঞ্জু (পিতা: আমজাদ), আলম (পিতা: আঃ লতিফ), জাহাঙ্গীর (পিতা: আঃ মজিদ), আঃ রাজ্জাক (পিতা: আফজাল), শাহ আলম (পিতা: নজর আলী), আক্তার হোসেন (পিতা: জুলহাস), জুলহাস (পিতা: আরদোস আলী), বাবু (পিতা: আঃ মজিদ), সিরাজুল (পিতা: আঃ ফকির) এবং আঃ করিম (পিতা: লাল চান)।
এরা সকলেই শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়ন আলোকদিয়া চরের বাসিন্দা।

অভিযোগ রয়েছে, এদের সহায়তায় ১০–১২ জনের একটি সশস্ত্র গ্রুপ নিয়মিত এলাকায় অবস্থান করে, যারা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে সাধারণ জনগণ ও গণমাধ্যমকর্মীদের ঘটনাস্থলে প্রবেশে বাধা প্রদান করে।
এর ফলে অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে স্বাভাবিক সামাজিক প্রতিরোধও ভেঙে পড়েছে।

প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৬২ ধারা স্পষ্টভাবে রাষ্ট্রীয় স্থাপনা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জনবসতিপূর্ণ এলাকার নিকটবর্তী নদী থেকে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ করেছে। পাশাপাশি উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন সংলগ্ন এলাকায় যে কোনো ধরনের বালু উত্তোলন বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা এবং ১০ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

রৌমারীতে মেধাবী শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ দাবি আখিরুলের

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, জাতীয় গ্রিড টাওয়ার ও বসতভিটা রক্ষার দাবিতে তারা একাধিকবার মানববন্ধনসহ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করলেও প্রভাবশালী চক্রটির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এতে জনমনে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিষা রানী কর্মকার বলেন, “অবৈধ বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, অবিলম্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, ড্রেজার জব্দ, দায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রুজু এবং নদী তীর সংরক্ষণে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি অচিরেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোসহ বিস্তীর্ণ জনপদ মারাত্মক ঝুঁকিতে নিমজ্জিত হবে।

ADVERTISEMENT

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত


সম্পাদক ও প্রকাশক : মাে:শফিকুল ইসলাম

কার্যালয় : ভাদাইল, ডিইপিজেড রোড, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা-১৩৪৯

যোগাযোগ: +৮৮০ ১৯১ ১৬৩ ০৮১০
ই-মেইল : dailyamaderkhobor2018@gmail.com

দৈনিক আমাদের খবর বাংলাদেশের একটি বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদ মাধ্যম। ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে দৈনিক আমাদের খবর, অনলাইন নিউজ পোর্টালটি সব ধরনের খবর প্রকাশ করে আসছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রচারিত অনলাইন সংবাদ মাধ্যমগুলির মধ্যে এটি একটি।

ADVERTISEMENT
×

নিউজ কার্ড প্রিভিউ (HTML Version)

News Image
০১ এপ্রিল ২০২৬
Trulli

শিবালয়ে অবৈধ বালু সন্ত্রাস হুমকিতে ফসলি জমি বসতবাড়ি ও জাতীয় গ্রিড টাওয়ার