সংঘাত ও উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে শুরু হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার শান্তি আলোচনার প্রথম দফার বৈঠক। শনিবার স্থানীয় সময় দুপুরে শুরু হওয়া এই আলোচনা রাজনৈতিক পর্যায় পেরিয়ে এখন কারিগরি ও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে রূপ নিয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের মধ্যকার এই সংলাপে মূল লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও আগ্রাসনের স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করা।
ইসলামাবাদ থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, আলোচনার শুরুর ভাগে রাজনৈতিক বিষয়গুলো প্রাধান্য পেলেও পরবর্তীতে ইরানের পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক, সামরিক, আইনি ও পরমাণু বিশেষজ্ঞরা সংলাপে অংশ নেন। ইরানি প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের জানানো হয়েছে, তারা তাদের জাতির অধিকার ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে বিন্দুমাত্র ছাড় না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। যদি অধিকার নিশ্চিত না হয়, তবে যেকোনো মুহূর্তে তারা আলোচনার টেবিল ত্যাগ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানের দুই প্রধান শর্ত তথা লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ এবং ইরানের আটকে রাখা অর্থ অবমুক্ত করার বিষয়ে মার্কিন প্রশাসন নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে।
তথ্যমতে, দুই দিনব্যাপী এই আলোচনায় ইরানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ধারাবাহিকতায় এই শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা কাঠামোর ভিত্তিতে আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী, যার মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতিপূরণ আদায়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে লেবাননের দক্ষিণ অঞ্চলে চলমান ইসরায়েলি হামলা নিয়ে ইরান এখনো পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় এবং এই বিষয়টি আলোচনার টেবিলে জোরালোভাবে উত্থাপন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, কারিগরি পর্যায়ের এই সংলাপ সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ উন্মোচিত হতে পারে।
সূত্র: প্রেস টিভি











