সর্বশেষ

শিবালয়ের মিরাজ হত্যাকারীদের আড়াল করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর অপচেষ্টা

স্টাফ রিপোর্টার

শিবালয়ের মিরাজ হত্যাকারীদের আড়াল করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর অপচেষ্টা।

গত মাসের(৩ এপ্রিল ২০২৬) ইং মানিকগঞ্জে শিবালয় উপজেলার যমুনা নদীর দুর্গম আলোকদিয়া চরে সংঘটিত মিরাজ হোসেন হত্যা মামলায় প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করে কতিপয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

রুহুল আমিন তারেক গণমাধ্যমকে জানান, তার বাবা মিরাজ হোসেন শিবালয় এলাকায় স্থানীয় হাজী লিটনের নির্দেশনায় চলাফেরা করতেন। স্থানীয় শামিম ফকির, মতিন সাধু ও অজ্ঞাত আরও দু’জনের সঙ্গে একটি স্পিডবোটকে কেন্দ্র করে তার বাবার দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল।

নিহতের পরিবারের দাবি,স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মামলাটি ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অনুসন্ধান ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়,গত (৩ এপ্রিল ২০২৬)রোজ শুক্রবার বিকাল ৫ টা থেকে ৫ টা ৩০ এর মধ্যে মিরাজ হোসেন নিহত হওয়ার পর তার স্বজনেরা (অজ্ঞাতনামাদের)আসামি করে শিবালয় থানায় লিখিত এজাহার দেয়।

তবে অদৃশ্য কারণে পুলিশ সেই অভিযোগ গ্রহণ না করে এমনকি নিহতের পরিবারকে না জানিয়ে ঘটনার দুই দিন পর (৫ ই এপ্রিল ২০২৬) ইং তেওতা বালুমহলের ইজারাদার কাওছার আলমকে বাদী করে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে শিবালয় থানায় একটি হত্যা মামলা নং-৬ দায়ের করে।

বিশ্ব হৃদয় দিবস উপলক্ষে ময়মনসিংহ সেমিনার ও রেলি অনুষ্ঠিত

নিহতের ছেলে রুহুল আমিন তারেক বার বার অভিযোগ করে বলেন,হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন আগেই স্প্রিট বোর্ড কেন্দ্রীক পুরনো একটি বিরোধ সমাধানের জন্য স্থানীয় হাজী লিটনের মধ্যস্থতায় একটি সালিশ বৈঠক হয়। শালিস বৈঠকে হাজী লিটনের সামনেই শামিম ফকির,মতিন সাধু ও আমিরুল তার বাবা মিরাজকে মারধর করেন। যেটা মিরাজ তার পরিবারকে জানিয়েছিলেন এবং তার ছেলে তারেক এর প্রতিবাদ করলে পরে মিরাজকে বিভিন্নভাবে হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানান মিরাজের ছেলে রুহুল আমিন তারেক।

এসময় তিনি আরোও বলেন আমরা অজ্ঞাত নামাদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করার মুল কারন হলো তাহলে,পুলিশ তদন্ত করে প্রকৃত আসামিদের শনাক্ত করতে পারবেন। কিন্তু পুলিশ আমাদের অভিযোগ গ্রহণ না করে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কারো বৃহৎ স্বার্থ রক্ষার্থে কাওছার আলমকে একটি রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহল চাপ দিতে থাকে এবং অবশেষে কাউসার আলমকে বাদী করে নিরপরাধ ব্যাক্তিদের আসামি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নিহতের চাচাতো ভাই অবসরপ্রাপ্ত সেনা-সদস্য সার্জেন্ট হাসিবুল বলেন,মিরাজকে হত্যা করা হয়েছে শিবালয়ে,অথচ মামলায় আসামি করা হয়েছে সিরাজগঞ্জের লোকজনকে। এতে পুরো ঘটনায় রহস্য সৃষ্টি হয়েছে এসময় তিনি গনমাধ্যম কর্মীদের সামনে প্রশ্ন রেখে বলেন মানিকগঞ্জের লোক ছাড়া শিবালয়ের মাটিতে এসে সিরাজগঞ্জের লোকজনের হত্যাকান্ড ঘাটানো কি সম্ভব?

তিনি আরোও অভিযোগ করে বলেন,হত্যাকাণ্ডের সময় নিজেদের সাথে জাহাঙ্গীর শেখ সহ আরোও কয়েকজন উপস্থিত থাকলেও পরবর্তী সময়ে তাদের কাউকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। যা পরিকল্পিত হত্যার সন্দেহ আরোও জোরালো করছে।

এদিকে নিহতের স্বজন ও চাচাতো ভাই ছাত্রদলের নেতা পরিচয় দানকারী কাবিরুল বলেন,থানায় এজাহার লেখার সময় শিবালয় থানার (ওসি তদন্ত) মানব বাবুর পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কয়েকজনের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার চাপ দেওয়া হয়েছিল। যা পরবর্তী সময়ে অফিসার ইনচার্জ ওসিকে অবহিত করা হয় বলেও জানন তিনি।

​বিমানবন্দরে পরিচালককে লাঞ্ছিত করার হুমকি জামায়াত নেতার: আসল ঘটনা কী?

মিরাজ হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এজাহার দায়ের করা হলেও তা গ্রহন না করা,এমনকি তেওতা বালু মহলের ইজারাদার কাওছার আলম এর লিখিত এজাহার গ্রহন ও মামলা রেকর্ড করা প্রসঙ্গে,মানিকগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মহররম আলী বলেন,মুলত নিহত মিরাজের ছেলেটি বয়স কম হওয়ার কারনে তার এজাহারটি গ্রহন করা হয়নি। এবং কাউসার আলমের সাথে নিহত মিরাজ সবসময় যোগাযোগ ও টাসে ছিলেন বলে তিনি জানান।

তাই কাওছার আলম খানের অভিযোগটি গ্রহন করা হয়েছে,তিনি আরোও বলেন,পুলিশ হেডকোয়ার্টারের সমন্বয়ে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনতে আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সক্ষম হবে বলে তিনি জানান।

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

দৈনিক আমাদের খবর একটি বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদ ও জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো নির্ভুলতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

×

নিউজ কার্ড প্রিভিউ (HTML Version)

News Image
০৯ মে ২০২৬
Trulli

শিবালয়ের মিরাজ হত্যাকারীদের আড়াল করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর অপচেষ্টা