সর্বশেষ

দোহার থেকে নারায়ণগঞ্জ: নির্বাচন কর্মকর্তা তাসিনুর রহমানকে ঘিরে পুরনো অভিযোগ ফের আলোচনায়

স্টাফ রিপোর্টার

নির্বাচন অফিসকে ঘিরে অনিয়ম, তথ্য জালিয়াতি ও কথিত সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ নতুন নয়। তবে সম্প্রতি আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে নারায়ণগঞ্জে কর্মরত উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তাসিনুর রহমানের নাম। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দোহার উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে অফিসের অভ্যন্তরে একটি শক্তিশালী চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়ম পরিচালনায় জড়িত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও তৎকালীন অফিস সংশ্লিষ্টদের দাবি, দোহার উপজেলা নির্বাচন অফিসে দায়িত্ব পালনকালে তাসিনুর রহমানের অধীনে কর্মরত দুই কম্পিউটার অপারেটর—সাকিব ও জামাল—এর মাধ্যমে নানা অনিয়ম সংঘটিত হতো। অভিযোগ রয়েছে, বিশেষ করে অপারেটর জামালকে ব্যবহার করে বয়স কমিয়ে আনা, নাম সংশোধন, নতুন ভোটার হালনাগাদসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর কাজ নিয়মবহির্ভূতভাবে সম্পন্ন করা হতো।

অভিযোগের বিষয়ে তৎকালীন অপারেটর জামাল একাধিক ব্যক্তির কাছে দাবি করেন, “তাসিনুর রহমানের নির্দেশেই এসব কাজ হতো এবং প্রতিটি কাজের আর্থিক লেনদেনের একটি অংশ তাকে দেওয়া হতো।” যদিও এ দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সূত্র জানায়, বিষয়টি একপর্যায়ে তৎকালীন নির্বাচন কমিশনের ডিজি হুমায়ুন কবিরের কানে পৌঁছালে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। অভিযোগ রয়েছে, তখন নিজের অবস্থান রক্ষায় কৌশলী ভূমিকা নেন তাসিনুর রহমান। পরে এক রাতে তৎকালীন সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসসুম ও ডিজি হুমায়ুন কবির আকস্মিকভাবে দোহার উপজেলা নির্বাচন অফিসে উপস্থিত হন।

গাজীপুরে বিয়ের প্রলোভনে জোরপূর্বক অসামাজিক কাজে বাধ্য করার অভিযোগ

সেখানে গিয়ে অফিস খোলা অবস্থায় পাওয়া যায় এবং অফিস সহায়ক জামালকে কম্পিউটারে কাজ করতে দেখা যায় বলে জানা গেছে। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। পরে অফিসের কম্পিউটার ও সার্ভার সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করে অন্তত ৭০ থেকে ৮০ জনের তথ্য সংশোধন বা হালনাগাদের আলামত পাওয়া যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর অপারেটর জামাল সম্পূর্ণ দায় স্বীকার করেন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। তবে পরে তিনি ঘনিষ্ঠজনদের কাছে অভিযোগ করেন, পুরো ঘটনার নেপথ্যে ছিলেন তাসিনুর রহমান এবং নিজের অবস্থান বাঁচাতেই তাকে সামনে আনা হয়েছিল। যদিও এ বিষয়ে তাসিনুর রহমান বরাবরই দাবি করে আসছেন, “তিনি এসব বিষয়ে কিছুই জানতেন না।”

প্রশ্ন উঠেছে—একজন কম্পিউটার অপারেটর কীভাবে এককভাবে নির্বাচন অফিসের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে সার্ভারভিত্তিক এত কাজ সম্পন্ন করলেন? সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অনুমোদন বা স্বাক্ষর ছাড়া এসব কার্যক্রম কীভাবে সম্ভব হলো—সেটিও এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঘটনার পর জামালকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তাসিনুর রহমানকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। পরে তাকে দোহার থেকে বদলি করে নারায়ণগঞ্জ সদর নির্বাচন অফিসে পাঠানো হয়।

বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে দায়িত্ব পালন করলেও তার বিরুদ্ধে পুরনো কায়দায় নতুন সিন্ডিকেট গঠনের চেষ্টার অভিযোগও উঠছে বিভিন্ন মহলে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা নির্বাচন কমিশনের প্রকাশ্য অবস্থান এখনো সামনে আসেনি।

ঈদগাঁও দরগাহ পাড়া সরকারি ঘর দখল নিয়ে ক্ষোভ, বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত অসহায়রা

এদিকে তৎকালীন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসসুমের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখন পর্যন্ত তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন—যদি অতীতে সংঘটিত অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হয়, তাহলে সেই সময় ভুল তথ্য দিয়ে তৈরি হওয়া ভোটার আইডি কিংবা হালনাগাদকৃত তথ্যের বর্তমান অবস্থা কী? একইসঙ্গে শুধুমাত্র জামালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে তাসিনুর রহমানের ভূমিকা কতটুকু ছিল, সেটিও তদন্তের দাবি রাখে বলে মনে করছেন অনেকে।

অভিযোগ রয়েছে, পুরো বিষয়টি গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে না এনে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। আর সেই কারণেই কি আজও বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন তাসিনুর রহমান—এ প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহলে।

জানা গেছে, খুব শিগগিরই বর্তমান নারায়ণগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমগীরের সঙ্গে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের একটি বৈঠক হতে পারে। সেখানে তাসিনুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। পরবর্তী পর্বে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য ও নথিভিত্তিক অনুসন্ধান প্রকাশ করা হবে।

    Opps, No posts were found.

সর্বশেষ

ADVERTISEMENT

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত


সম্পাদক ও প্রকাশক : মাে:শফিকুল ইসলাম

কার্যালয় : ভাদাইল, ডিইপিজেড রোড, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা-১৩৪৯

যোগাযোগ: +৮৮০ ১৯১ ১৬৩ ০৮১০
ই-মেইল : dailyamaderkhobor2018@gmail.com

দৈনিক আমাদের খবর বাংলাদেশের একটি বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদ মাধ্যম। ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে দৈনিক আমাদের খবর, অনলাইন নিউজ পোর্টালটি সব ধরনের খবর প্রকাশ করে আসছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রচারিত অনলাইন সংবাদ মাধ্যমগুলির মধ্যে এটি একটি।

ADVERTISEMENT
×

নিউজ কার্ড প্রিভিউ (HTML Version)

News Image
১৫ মে ২০২৬
Trulli

দোহার থেকে নারায়ণগঞ্জ: নির্বাচন কর্মকর্তা তাসিনুর রহমানকে ঘিরে পুরনো অভিযোগ ফের আলোচনায়