ময়মনসিংহের অন্যতম শীর্ষ ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজে শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক পাঠোন্নতি,শৃঙ্খলা ও নৈতিক শিক্ষার প্রসারে এক ব্যতিক্রমী অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
(১৬ই মে শনিবার) সকাল ১০টায় কলেজ অডিটোরিয়ামে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কাজী মো.হাদিউল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক ও কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি মো.সাইফুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অভিভাবক প্রতিনিধি মো.শামসুল আলম উজ্জ্বল। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে মূল্যবান দিকনির্দেশনা প্রদান করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক প্রফেসর আব্দুল হাই। অনুষ্ঠানটি যৌথ সমন্বয় ও সঞ্চালনা করেন সহকারী অধ্যাপক এনায়েতুর রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু জিপিএ-৫ বা ভালো ফলের পেছনে দৌড়ালে চলবে না, তাদের মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আর এই লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষক এবং অভিভাবকের মধ্যকার সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন। সমাবেশের দ্বিতীয় পর্বে অভিভাবকেরা মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক মানোন্নয়নে নানামুখী পরামর্শ ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তবে এই প্রকাশ্য আলোচনার সমান্তরালে, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার কিছু প্রচ্ছন্ন ও গভীর সামাজিক সংকট নিয়েও উপস্থিত সচেতন মহলের মধ্যে এক নীরব আকুতি লক্ষ্য করা গেছে।
বিশেষ করে, জাতীয় শিক্ষানীতির স্পষ্ট নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও দেশজুড়ে চলমান ‘প্রাইভেট ও কোচিং সংস্কৃতির’ নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে আড়ালে বিস্তর আলোচনা তৈরি হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সমাজ থেকে যেকোনো ধরণের অনৈতিকতা বা দুর্নীতি দূর করার প্রথম শর্ত হলো শিক্ষাঙ্গনকে শতভাগ বাণিজ্যিকীকরণ মুক্ত রাখা। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় দেখা যায়, প্রাতিষ্ঠানিক ক্লাসের বাইরেও শিক্ষার্থীদের এক ধরণের অলিখিত ও প্রচ্ছন্ন মনস্তাত্ত্বিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। শিক্ষাবিদদের মতে, যখন কোনো শিক্ষার্থীর মূল্যায়ন ক্লাসরুমের মেধার চেয়েও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরের কোনো ব্যক্তিগত কোচিং বা প্রাইভেট ব্যাচের ওপর পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তখন তা শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যকেই ব্যাহত করে। এই ধরণের অলিখিত বাধ্যবাধকতা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনে এক ধরণের বৈষম্য ও হতাশার জন্ম দেয়,যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
এমতাবস্থায় সমাবেশে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ ও শিক্ষানুরাগী মহল আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ তার গৌরবময় ঐতিহ্য বজায় রেখে এই ধরণের পরোক্ষ ও সামাজিক সংকটগুলো কাটিয়ে উঠতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। কোনো ধরণের বাণিজ্যিক প্রভাবের উর্ধ্বে উঠে প্রতিটি শিক্ষার্থী যাতে কেবল তার মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে সমান মূল্যায়ন পায়—এমন একটি শতভাগ স্বচ্ছ ও বৈষম্যহীন শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রত্যয় নিয়ে সমাবেশটি সমাপ্ত হয়।















