মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা-এর তেওতা আলোকদিয়া চর এলাকায় প্রশাসনের একাধিক অভিযান ও কঠোর অবস্থানের পরও পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে অবৈধ বালু উত্তোলনকারী চক্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, জনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা ও জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ ঘেঁষে যমুনা নদী থেকে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে,যা স্থানীয় অবকাঠামো ও জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, জাতীয় গ্রিডের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ার সংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় আব্দুল করিম ও আব্দুল রশিদের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ সশস্ত্র চক্র ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। অভিযোগ রয়েছে, চক্রটির সঙ্গে যমুনা তীরবর্তী অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত আত্মসমর্পণকারী চরমপন্থী বাপ্পি ও তার সহযোগীরাও সক্রিয়ভাবে জড়িত।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি,এলাকাবাসী, সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতিরোধ ঠেকাতে এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করতে সশস্ত্র বাহিনী ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ ভয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশ এবং উপজেলা প্রশাসনের বারবার অভিযান পরিচালনার পরও রহস্যজনকভাবে পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠে বালুখেকো সিন্ডিকেটটি। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালী একটি রাজনৈতিক মহলের ছত্রছায়ায় থেকে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এ অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের নিকটবর্তী এলাকায় অপরিকল্পিত ও অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীভাঙন, ভূমিধস এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা জাতীয় বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৬(২) ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, নদীবন্দর, সেতু, বাঁধ কিংবা জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের আশপাশে কোনোভাবেই বালু উত্তোলন করা যাবে না।
আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ২ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড, অনধিক ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। একই অপরাধ পুনরাবৃত্তি ঘটলে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের বিধানও রয়েছে। তবে কঠোর আইন ও প্রশাসনিক নজরদারির পরও থামছে না অবৈধ বালু বাণিজ্য।
স্থানীয়দের অভিযোগ,বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ,নদীপথে নৌযানে চাঁদাবাজি এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায়ই কয়েকটি সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব গ্রুপের মধ্যে আত্মসমর্পণকারী বাপ্পি বাহিনী অন্যতম বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে নাজমুন আরা সুলতানা-এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে অবৈধ ড্রেজার জব্দ, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং জাতীয় গ্রিড সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্থায়ী মনিটরিং জোরদারের দাবি জানিয়েছে।
















