সর্বশেষ

যমুনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন: ভাঙ্গনে আতঙ্কে এলাকাবাসী

স্টাফ রিপোর্টার

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের আলোকদিয়া চর এলাকায় যমুনা নদীর তলদেশ থেকে জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের টাওয়ার সংলগ্ন অংশে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ,একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কথিত আত্মসমর্পণকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের ছত্রছায়ায় এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অভিযোগে বলা হয়, স্থানীয়ভাবে পরিচিত কিছু ব্যক্তি এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।

স্থানীয়দের অভিযোগে উল্লেখিত ব্যক্তিরা হলেন—করিম (পিতা: ফুলচান),আক্তার (পিতা: জুলহাস),মোতালেব (পিতা: ফুলজান),জুলহাস,রোসিদ (পিতা: আমিরুল),আমিরুল,মোস্তফা (পিতা: হামেদ), মঞ্জু মেম্বার (পিতা: হামিদ), রঞ্জু, জাহাঙ্গীর এবং ইউনুস সরদার (পিতা:লতিফ) আলোকদিয়া, তেওতা।

পাবনায় বিভিন্ন মন্দিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিবুল হাসান

এছাড়া স্থানীয়দের দাবি,আব্দুর রশিদ ও আব্দুল করিমের নেতৃত্বে বাপ্পি নামের এক ব্যক্তি এবং তার সহযোগী রকি মিলে নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, এ চক্র নদীপথে আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি এবং প্রতিপক্ষকে দমনে সশস্ত্র শক্তি ব্যবহার করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়,যমুনা নদীর ৭ ও ৮ নম্বর বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ার সংলগ্ন এলাকায় ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ড্রেজার মেশিনের উপস্থিতি রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব কার্যক্রম চলাকালে কিছু লোক পাহারায় থাকে এবং এলাকায় অস্ত্র থাকার কথাও শোনা যায়, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাপ্পি ও রকির নেতৃত্বাধীন কথিত বাহিনীর কারণে চরাঞ্চলে ভয়ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, নদীপথে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে অতীতেও একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৩ এপ্রিল বালুমহল ও চাঁদাবাজি সংক্রান্ত একটি হত্যা মামলার পরও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি। বরং গত ১৭ ও ১৮ এপ্রিল এবং সর্বশেষ ১০ মে এলাকায় সশস্ত্র মহড়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

আশুলিয়ায় ভুয়া পরিচয় দিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি: হায়েস ও অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৩

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন,“যমুনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও কোস্ট গার্ড সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। কাউকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হবে না। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীভাঙন তীব্র হয়ে হাজারো বসতবাড়ি, ফসলি জমি এবং জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে। চরাঞ্চলবাসীর দাবি,দ্রুত কার্যকর অভিযান পরিচালনা না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

দৈনিক আমাদের খবর একটি বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদ ও জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো নির্ভুলতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

×

নিউজ কার্ড প্রিভিউ (HTML Version)

News Image
১৮ মে ২০২৬
Trulli

যমুনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন: ভাঙ্গনে আতঙ্কে এলাকাবাসী