মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের আলোকদিয়া চর এলাকায় যমুনা নদীর তলদেশ থেকে জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের টাওয়ার সংলগ্ন অংশে পুনরায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী একটি চক্র ও কথিত আত্মসমর্পণকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
অভিযোগে বলা হয়, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি এবং বাপ্পি ও রকি নামের পরিচিতদের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র নদীতে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে বালু উত্তোলন করছে। এ সময় নদীপথে আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি এবং প্রতিপক্ষকে দমনে সশস্ত্র তৎপরতার অভিযোগও পাওয়া গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়,বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ার সংলগ্ন এলাকায় ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ড্রেজার মেশিনের উপস্থিতি রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব কার্যক্রম চলাকালে কিছু লোক পাহারায় থাকে এবং তাদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে—এমন আতঙ্কও এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রের কারণে চরাঞ্চলে চরম নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, অবৈধ বালু উত্তোলন ছাড়াও চাঁদাবাজি এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, চলতি বছরের ৩ এপ্রিল সংঘটিত একটি হত্যা মামলার পরও নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি। বরং পরবর্তী সময়ে একাধিকবার সশস্ত্র মহড়ার অভিযোগও উঠেছে।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, “যমুনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কাউকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হবে না। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীভাঙন তীব্র হয়ে হাজারো বসতবাড়ি, ফসলি জমি এবং জাতীয় গ্রিডের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে। চরাঞ্চলবাসীর দাবি, দ্রুত কার্যকর অভিযান পরিচালনা করে এই অবৈধ বালু উত্তোলন ও সশস্ত্র তৎপরতা বন্ধ না করা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।














