ফরিদপুর ও রাজবাড়ী জেলার সীমান্তবর্তী পদ্মা ও যমুনা নদীর একাধিক চরাঞ্চলে মহামান্য হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গভীর রাতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে বালু মাফিয়া চক্রের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের দাবি,সংঘবদ্ধ সশস্ত্র একটি বালু মাফিয়া চক্র দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ড্রেজার ব্যবহার করে নদী থেকে বালু উত্তোলন চালিয়ে আসছে,ফলে নদীভাঙন ও পরিবেশগত ঝুঁকি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরেজমিন অনুসন্ধান ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট দক্ষিণাংশের ছাত্তার মেম্বার পাড়া চর, চর কর্নেশন, কলাবাগান চর ও ক্যানাল ঘাট চর এলাকা এবং ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়নের আইজউদ্দিন মাতুব্বরের ডাঙ্গী চরসহ নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের সিএনবি ঘাট সংলগ্ন এলাকায় রাতের আঁধারে বালু উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী,স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্রের নেতৃত্বে শহীদ পাল ও আলম শেখ নামের ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতায় একদল সশস্ত্র পাহারাদারের উপস্থিতিতে সন্ধ্যা ৭টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত একাধিক উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে স্থানীয় জনগণের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, ভয়ভীতির কারণে কেউ প্রকাশ্যে এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে অভিযোগ রয়েছে, বালু উত্তোলন নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়েছে,যিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
উল্লেখ্য,বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া নদী বা চরাঞ্চল থেকে বালু উত্তোলন দণ্ডনীয় অপরাধ। আইন অনুযায়ী এ ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
এ বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজা পারভীন বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের অবস্থান কঠোর এবং জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান,নিয়মিত অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং কোনোভাবেই অবৈধ বালু উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন,দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পদ্মা এবং যমুনার চরাঞ্চলে নদীভাঙন, কৃষিজমি ক্ষয় এবং বসতবাড়ি হুমকির ঝুঁকি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।














