কুড়িগ্রাম-৪ আসনের রাজিবপুর ও রৌমারী উপজেলায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট ও অসহনীয় লোডশেডিংয়ে জনজীবন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। দিনে-রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কৃষি খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে খোলা চিঠির মাধ্যমে আকুল আবেদন জানিয়েছেন দুই উপজেলার ভুক্তভোগী মানুষ।
খোলা চিঠিতে বলা হয়, সীমান্তবর্তী ও নদীভাঙন কবলিত চরাঞ্চল রাজিবপুর ও রৌমারীতে বর্তমানে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকে না। চলমান তীব্র গরমে বিদ্যুৎহীনতা মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে স্থানীয় বাজারগুলোতে ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। ফ্রিজে রাখা পচনশীল খাদ্য ও কাঁচামাল নষ্ট হচ্ছে। রাইস মিল, ওয়ার্কশপ, কম্পিউটারনির্ভর দোকান ও ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কথাও উঠে আসে চিঠিতে। বিদ্যুতের অভাবে রাতের বেলা পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। সামনে বিভিন্ন পরীক্ষা থাকলেও তীব্র গরম ও ঘনঘন লোডশেডিংয়ে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অভিভাবকরা।
স্বাস্থ্য খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় ক্লিনিকগুলোতে বিদ্যুৎ না থাকায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। গরমে নবজাতক, শিশু ও বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের দুর্ভোগও বেড়েছে কয়েকগুণ।
কৃষিপ্রধান এ অঞ্চলে সেচকাজ ব্যাহত হওয়ায় কৃষকরাও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। লোডশেডিংয়ের কারণে সেচ পাম্প চালানো যাচ্ছে না, ফলে মাঠের ফসল ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
খোলা চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে অতিরিক্ত লোডশেডিং দেওয়ায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। এ অবস্থায় দ্রুত বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানান এলাকাবাসী।
রাজিবপুর ও রৌমারীর সর্বস্তরের জনগণ আশা প্রকাশ করেন, তাদের দুর্ভোগ লাঘবে জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবেন।













