ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানীর কুরবানির পশুর হাটগুলোয় জমে উঠতে শুরু করেছিল বেচাকেনা। প্রতি বছর ঈদের আগে হাটে বেচাকেনা বাড়ে। এবারও সেই অপেক্ষায় ছিলেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।
আজ মঙ্গলবার সরেজমিনে বিভিন্ন পশুর হাটে দেখা যায়, সকাল থেকেই ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই পরিবার নিয়ে গরু দেখতে আসেন। কিন্তু দুপুরের প্রবল বৃষ্টির পর ক্রেতাদের একটি বড় অংশ দ্রুত হাট ছেড়ে চলে যান। বৃষ্টির পানিতে হাটের ভেতরে হাঁটাচলা কঠিন হয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও পানি জমেছে। এতে গরু নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যাপারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
ধোলাইখাল হাটে রাজশাহী থেকে আসা ব্যাপারী খলিল হোসেন বলেন, সকাল থেকে ভাল বেচাকেনার আশা ছিল। কয়েকজন ক্রেতা গরু দেখে দামাদামিও করছিলেন। কিন্তু বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর সবাই চলে গেছেন। এখন গরু সামলানোই কষ্ট হয়ে গেছে। তিনি জানান, চারটি ট্রাকে করে করে ৩০টি গরু নিয়ে ঢাকায় এসেছেন। পরিবহন খরচ, খাবার ও শ্রমিক মিলিয়ে এবার খরচ অনেক বেড়েছে। তার ওপর বৃষ্টিতে গরুগুলো ভিজে যাওয়ায় অসুস্থ হওয়ার শঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
একই হাটে চাঁদপুর থেকে আসা আরেক ব্যাপারী আবদুল কাদির বলেন, হাটে পানি জমায় গরু নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। খড় ভিজে গেছে, গরুকে ঠিকমতো বসাতেও পারছি না। ক্রেতাও কমেছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, হাটে পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা আর পানিতে হাটের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়। এতে ক্রেতারা স্বাভাবিকভাবে বেশিক্ষণ থাকতে চান না।
পোস্তগোলা হাটে গরু কিনতে আসেন জুরাইনের বাসিন্দা মালেক হোসেন। তিনি বলেন, দেখে শুনে গরু কেনার জন্য এসেছি। এসে দেখি বৃষ্টি। বৃষ্টির কারণে কেনাবেচার পরিবেশ পুরোটাই নষ্ট হয়েছে। কালও এভাবে চলতে থাকে তাহলে আমাদেরও কষ্ট হয়ে যাবে, ব্যাপারীদেরও কষ্ট হয়ে যাবে। ধোলাইখালে গরু কিনতে গিয়েছে আমজাদ হোসেন। তিনি বলেন, হাটে গিয়ে কয়েকটা গরু দেখতেই না দেখতেই বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল। দেড় দুই ঘন্টার মত বৃষ্টি হল। পরবর্তীতে গরু না কিনেই বাসায় চলে আসি। সন্ধ্যার পর আবার যাব। না পারলে কাল কিনতে হবে। অন্যদিকে, কমলাপুর পশুর হাটেও একই চিত্র দেখা যায়। বৃষ্টির সময় অনেক ব্যাপারী ত্রিপল টাঙিয়ে গরু বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কেউ কেউ নিজেদের শরীর ভিজিয়ে গরুকে শুকনো রাখার চেষ্টা করছিলেন।
কমলাপুর হাটে সিরাজগঞ্জ থেকে আসা ব্যাপারী মো. মিন্টু মিয়া বলেন, একেকটা গরু নিয়ে আসতে এবার অনেক খরচ হয়েছে। এখন যদি বেচাকেনা না হয় তাহলে বড় লোকসানে পড়তে হবে। বৃষ্টির কারণে দুপুরের পর হাটে ক্রেতা নেই হয়ে গেছে। হাট সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের আগে রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে সাধারণত বিকাল ও সন্ধ্যার দিকে ভিড় বাড়ে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে মঙ্গলবার সেই চিত্র অনেকটাই বদলে যেতে পারে। বেচাকেনার গতি কমে যাওয়া আশঙ্কা নিয়েও উদ্বেগ জানান ব্যাপারীরা।












