পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীতে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ডিএনসিসি জানিয়েছে, ঈদের দিন ১২ ঘণ্টার আগেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কাজে মাঠে থাকবে ১৬ হাজার পরিচ্ছন্নতা কর্মী এবং সাড়ে ৭ শতাধিক বর্জ্যবাহী গাড়ি। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানস্থ ডিএনসিসি নগর ভবনে আয়োজিত কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোরবানির পশুর হাট, চামড়া ব্যবস্থাপনা, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী সিটি করপোরেশনের লোকদের ১২ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ডিএনসিসির প্রস্তুতি সন্তোষজনক। নির্ধারিত সময়ের আগেই নগরবাসীকে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ উপহার দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরবাসীর সহযোগিতাও কামনা করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতিবৃষ্টির সময় সাময়িক জলজট তৈরি হলেও দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) ও ড্রেনেজ টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, সরকারের নির্ধারিত সময়ের আগেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ নির্ধারিত সময়ের আগেই ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকার বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
ডিএনসিসি জানিয়েছে, আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে দ্রুত বর্জ্য খালাস নিশ্চিত করতে নতুন সংযোগ সড়ক, প্ল্যাটফর্ম ও ট্রেঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বর্জ্য পরিবহন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে ডিজিটাল ওয়েব্রিজের মাধ্যমে রিয়েল-টাইম ট্রিপ মনিটরিং চালু রাখা হয়েছে। এদিকে নগরবাসীর মধ্যে ইতোমধ্যে ১৬ লাখ ৩০ হাজার পলিব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ৩৬০০ বস্তা ব্লিচিং পাউডার, ১৩৪৮ ক্যান ফিনাইল এবং ৩৯০০ ক্যান স্যাভলন বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
জনসচেতনতা বাড়াতে শহরজুড়ে মাইকিং, ডিজিটাল বিলবোর্ডে প্রচারণা, ৫০ হাজার লিফলেট বিতরণ ও মোবাইল এসএমএস কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে জুমার খুতবায় পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে। সভায় ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রকিবুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।













