মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের যমুনা নদীর দুর্গম আলোকদিয়া চরে জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ার সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে বেপরোয়া ভাবে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন।
স্থানীয়দের অভিযোগ,একটি সংঘবদ্ধ বালু মাফিয়া চক্রের নেতৃত্বে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ড্রেজার বসিয়ে নির্বিঘ্নে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ অবকাঠামো, কয়েক হাজার মানুষের বসতবাড়ি এবং বিস্তীর্ণ কৃষিজমি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,আ.রশিদ,আ.করিম ও জুলহাস গংয়ের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। বেপরোয়া এ কর্মকাণ্ডের ফলে নদীভাঙনের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের টাওয়ারগুলো ঝুঁকির মুখে পড়লে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে,জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করলেও সংশ্লিষ্ট এলাকায় নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডের কার্যকর নজরদারির অভাবে বালু মাফিয়ারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এ ব্যাপারে অবৈধ বালু উত্তোলনের নিউজ না করার জন্য এই প্রতিবেদকের মুঠোফোনে বালু মাহালের পরিচয় দিয়ে “অয়ন নামের”এক ব্যক্তি অশালীন আচরণ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,একাধিকবার পাটুরিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ি ও পাটুরিয়া কোস্টগার্ডকে বিষয়টি অবহিত করা হলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। তাদের দাবি,শত শত গ্রামবাসী নদীর তীরে অবস্থান করলেও সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে না গিয়ে ‘কাউকে পাওয়া যায়নি’ বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছেন। এ কারণে স্থানীয়দের মধ্যে কর্মগৎভাবে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ,অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কিছু দায়িত্বশীল সংস্থার রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।তারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে পাটুরিয়া কোস্টগার্ডের ইনচার্জের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন,“আমরা নিয়মিত টহলে রয়েছি। তবে কাউকে বালু উত্তোলন করতে দেখিনি। যদিও স্থানীয়দের দাবি,সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রকাশ্যেই দিনভর বেপরোয়া ভাবে অবৈধ বালু উত্তোলন চলতে দেখা গেছে।
শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিষা রানী কর্মকার গণমাধ্যমকে জানান,“অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। মোবাইল কোর্টই একমাত্র সমাধান নয়। স্থানীয় কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশকে নিয়মিত টহল জোরদারের মাধ্যমে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। তারা কেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।”বালুমহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী শাস্তি আইন বিশেষজ্ঞরা জানান, বালুমহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন,২০১০ (সংশোধিত) অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া বালু উত্তোলন একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। ধারা ৪ ও ৫: অনুমোদিত বালুমহল ছাড়া অন্য স্থান থেকে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ। ধারা ১৫:অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, পরিবহন বা মজুতের দায়ে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। ধারা ১৬: অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত ড্রেজার, বাল্কহেড, ট্রলার,পাইপলাইন ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ এবং বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা রয়েছে। ধারা ১৭: পুনরাবৃত্ত অপরাধের ক্ষেত্রে আরও কঠোর শাস্তি ও অধিক অর্থদণ্ড আরোপ করা যেতে পারে।
স্থানীয়রা ও সচেতন মহলের জোর দাবি, অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ,দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত সময়ের মধ্যে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।













