বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী কর্তৃক জাতীয় সংসদে হিজাব নিয়ে কটাক্ষ এবং দেশব্যাপী ধর্ষণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রশিবির।
সোমবার (১৫ জুন) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা প্রাঙ্গণের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
বিক্ষোভে নেতাকর্মীরা “হিজাব, নিকাব, পর্দা—আমার মায়ের মর্যাদা”, “হিজাব নিয়ে বিদ্বেষ, রুখে দাও বাংলাদেশ”, “বিএনপির অনেক গুণ, ১০০ দিনে ৬০০ খুন”, “ধর্ষক আর চাঁদাবাজ, মিলেমিশে একাকার” এবং “আয় মনিরুল, দেখে যা—রাজপথে তোর বাপেরা” স্লোগান দেন।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ইবি শাখার সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, “গতকাল সংসদে মনিরুল হক চৌধুরী হিজাব নিয়ে আমার বোনদের সম্পর্কে কটূক্তি করেছেন। ‘নিকাবের ভেতরে স্ত্রী বদল করা যায়’—এমন বক্তব্য দিয়ে তিনি এ দেশের নারী, মা ও বোনদের সম্মান নিয়ে আঘাত করেছেন। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, তার এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের জন্য তাকে অতিসত্বর বাংলাদেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। এছাড়া বিএনপির সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে তার বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়েছেন। সুতরাং সংসদ থেকে এ বিষয়ে ক্ষমা প্রার্থনার প্রস্তাব পাস করতে হবে।”
সভাপতি আরও বলেন, “বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ইসলামবিদ্বেষিতার মহোৎসব চলছে। যে যত বেশি ইসলামবিদ্বেষিতা ছড়াতে পারছে, তার পদ যেন তত বড় হচ্ছে। যারা এ দেশের ইসলাম ও মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত হানবে, তাদের বিরুদ্ধে সংসদে একটি স্থায়ী আইন পাস করতে হবে। আমাদের কাছে মনে হয়, এটি বিএনপির অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত যে যারা বেশি ইসলামবিদ্বেষিতা ছড়াবে, তাদের সামনের সারিতে নিয়ে আসা হবে। যদি এটি তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে, তাহলে ইসলামপ্রিয় তাওহিদী জনতা এসব ইসলামবিদ্বেষীদের এ দেশ থেকে উচ্ছেদ করতে বাধ্য হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বিএনপি ভারতকে খুশি করার জন্য ইসলামবিদ্বেষিতা ছড়াচ্ছে। তারা ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এ দেশের কোটি মানুষের আস্থা যখন ইসলামী ব্যাংক ও ইসলামী অনুশাসনের প্রতি তৈরি হয়েছে, ঠিক তখন তারা ইসলামী ব্যাংক বন্ধের ষড়যন্ত্র করছে। এছাড়াও ইসলামী বিধান মেনে চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব—তা আদ-দ্বীন হাসপাতাল দেখিয়েছে। অবশ্যই সেখানে ছয়জন শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় আমরা প্রতিবাদ জানাই এবং দায়ীদের শাস্তি দাবি করি। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে আদ-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ করে দিতে হবে। বিষয়টি থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, তারা ভারতীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে।”
এসময় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় পরিষদের সদস্য ও ইবি শাখার সভাপতি ইউসুফ আলী, সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফিসহ তিন শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।









