সর্বশেষ

তুরস্কের কাছে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের জেট ইঞ্জিন বিক্রির পথে ট্রাম্প প্রশাসন

অনলাইন ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তুরস্কের কাছে ৭০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের কয়েক ডজন জেট ইঞ্জিন বিক্রির পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসকে জানিয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কংগ্রেসের কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা আপত্তি তুলেছেন।

এর আগে বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ২০১৯ সালে রাশিয়ার এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে তুরস্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং কংগ্রেসের আপত্তি থাকলেও ট্রাম্প প্রশাসন এই বিক্রয় চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বুধবার রাতে কংগ্রেসে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রাজনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক, মানবাধিকার এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনা করেই এই রপ্তানি লাইসেন্স অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আগামী মাসে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো সম্মেলনের আগে এই পদক্ষেপকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের প্রতি সদিচ্ছার বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প এরদোগানকে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্রদের একজন হিসেবে বিবেচনা করেন।

কংগ্রেস চাইলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে যৌথ প্রস্তাব এনে এই বিক্রয় চুক্তি আটকে দিতে পারে। তবে সেটি কার্যকর করতে হলে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এমনকি বিল পাশ হলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন ডুবো ড্রোন আটকের দাবি ইরানের

প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট গ্রেগরি মিকস এই চুক্তির অন্যতম সমালোচক। তার অভিযোগ, তুরস্কের এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশাসন পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা দেয়নি।

মিকস বলেন, ‘এই সরঞ্জাম সরবরাহে কয়েক বছর সময় লাগবে। অথচ প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের উদ্বেগের জবাব দিতে বারবার ব্যর্থ হয়েছে।’

জেট ইঞ্জিন বিক্রি, এফ-৩৫ কর্মসূচি এবং আঙ্কারা সম্মেলন প্রসঙ্গে বুধবার ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সম্ভবত এমন কিছু করতে যাচ্ছি, যা তাদের অনেক খুশি করবে।’

মার্কিন প্রতিষ্ঠান জেনারেল ইলেকট্রিক (জিই)-এর তৈরি এসব ইঞ্জিন তুরস্কের নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত প্রথম পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ‘কান’ (KAAN)-এ ব্যবহার করা হবে। ২০১৬ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল প্রতিরক্ষা শিল্পে বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে তুরস্ককে আরও স্বনির্ভর করে তোলা।

তবে তুর্কি কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, তাদের বিমানবাহিনীর মূল শক্তি মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করতে এখনও কয়েক বছর সময় লাগবে।

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অভিযানের প্রস্তুতির কথা জানালেন রাজনাথ সিং

২০১৯ সালে রাশিয়ার এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর যুক্তরাষ্ট্র-তুরস্ক সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এর জেরে ওয়াশিংটন তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং দেশটিকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচি থেকে বাদ দেয়। একই সঙ্গে কংগ্রেস আইন পাশ করে, যাতে এস-৪০০ ব্যবস্থা বহাল থাকা পর্যন্ত তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ বিক্রি নিষিদ্ধ থাকে।

এদিকে বৃহস্পতিবার আরও কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা জেট ইঞ্জিন বিক্রির বিরোধিতা করেন। প্রতিনিধি ক্রিস পাপাশ বলেন, ‘মার্কিন আইন লঙ্ঘনের পরও এরদোয়ান সরকারকে কোনোভাবেই পুরস্কৃত করা উচিত নয়।’ তিনি তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান না দেওয়ার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে প্রতিনিধি ডিনা টাইটাস জানান, ট্রাম্প প্রশাসন যদি এই পরিকল্পনা এগিয়ে নেয়, তবে তিনি জেট ইঞ্জিন বিক্রি ঠেকাতে কংগ্রেসে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করবেন।

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

দৈনিক আমাদের খবর একটি বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদ ও জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো নির্ভুলতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

×

নিউজ কার্ড প্রিভিউ (HTML Version)

News Image
২৬ জুন ২০২৬
Trulli

তুরস্কের কাছে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের জেট ইঞ্জিন বিক্রির পথে ট্রাম্প প্রশাসন