সর্বশেষ

শিবালয়ের আলোকদিয়া চরে অবাধে বালু উত্তোলনে ফসলি জমি বসতভিটা হুমকির মুখে

স্টাফ রিপোর্টার

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার যমুনা নদীর তীরবর্তী আলোকদিয়া চরে অবৈধভাবে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ড্রেজার দিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে একটি সশস্ত্র সক্রিয় বালু খেকো মহল। স্থানীয় চর অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষের অভিযোগ ৮টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে প্রতিদিন এই অবৈধ বালু উত্তোলনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয়রা বলেন,অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে আলোকদিয়া চরের নদীতীরবর্তী বাড়িঘর ও ফসলি জমি ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এই ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে মুজিব কেল্লা,বেশ কয়েকটি স্কুল,সরকারি স্থাপনা মসজিদ এবং হাট-বাজারের স্থাপনা।

এই অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য স্থায়ী চর এলাকার বাসিন্দারা নৌপরিবহন মন্ত্রীর মন্ত্রণালয়ে ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।

সোমবার (২৯ জুন ২৬ ইং সোমবার) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,শিবালয়ের তেওতা এলাকায় সরকারিভাবে ইজারা দেওয়া বালুমহাল থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে যমুনা নদীর পশ্চিম পাশে রয়েছে বালু উত্তোলনের উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ছয়টি মেশিন ও বেশ কয়েকটি বাল্কহেড। বাংলাদেশ জাতীয় পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির (পিজিসিবি) বিদ্যুতের পিলারের পাশে ছয়টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে বাল্কহেডে ভরা হচ্ছে এবং এসব বালু অন্যান্য জেলায় নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গায় ভিটামিন এ ক্যাপসুল খেয়ে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনায় শিশুর মৃত্যু

ইজারার নির্ধারিত স্থানের বাইরে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর পাড়ে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।এরই মধ্যে ভাঙনে নদীতে চলে গেছে একটি মসজিদ,বহু কৃষিজমি ও বসতবাড়ি। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মসজিদ এবং সরকারিভাবে নির্মিত মুজিব কেল্লা। আরোও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে অনেক পরিবারের বসতভিটা,আবাদি জমি বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি স্থাপনা।

ছলিম উদ্দিন নামের একজন বাসিন্দা বলেন, শীতকালে সাধারণত নদী ভাঙন কম থাকে। কিন্তু ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর পাড় ভাঙছে। অল্প কয়েকদিনের ব্যবধানে নদীর ভাঙন তীব্র হয়েছে,ফলে কয়েকটি পরিবার মিলে অন্যত্র সরে যাচ্ছেন।

শিবালয়ের আলোকদিয়া চরের বাসিন্দারা জানান, বিদ্যুতের পিলারের পাশ থেকে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। কেউ বাধা দিতে গেলে মারধর ও মামলা করার হুমকি দেওয়া হয়, তাই ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না।

আলোকদিয়া চরের বাসিন্দা জামাল হোসেন বলেন,অসাধু বালু ব্যবসায়ীদের নিষেধ করা সত্বেও বালু উত্তোলন বন্ধ করা যায়নি। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করেছেন। কিন্তু অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না প্রশাসন।

ময়মনসিংহে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত

শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, যমুনায় ইজারারা এলাকার বাইরে বালু উত্তোলনের কোন প্রকার সুযোগ নেই। এরপরও যদি বৈদ্যুতিক খুঁটির কাছে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকে,তাহলে আমাদের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হবে। তবে, মূলহোতাদের ধরার চেষ্টা চলছে।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা গণমাধ্যমকে জানান,অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে তিনি জানান।

জেলা প্রশাসক আরোও জানান,চর এলাকার মানুষের একটি অভিযোগ পেয়েছি। ঘরবাড়ি রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে দ্রুতই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ইজারাদারদের ইজারা বাতিল করা হবে।

ADVERTISEMENT

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত


সম্পাদক ও প্রকাশক : মাে:শফিকুল ইসলাম

কার্যালয় : ভাদাইল, ডিইপিজেড রোড, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা-১৩৪৯

যোগাযোগ: +৮৮০ ১৯১ ১৬৩ ০৮১০
ই-মেইল : dailyamaderkhobor2018@gmail.com

দৈনিক আমাদের খবর বাংলাদেশের একটি বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদ মাধ্যম। ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে দৈনিক আমাদের খবর, অনলাইন নিউজ পোর্টালটি সব ধরনের খবর প্রকাশ করে আসছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রচারিত অনলাইন সংবাদ মাধ্যমগুলির মধ্যে এটি একটি।

ADVERTISEMENT
×

নিউজ কার্ড প্রিভিউ (HTML Version)

News Image
২৯ জুন ২০২৬
Trulli

শিবালয়ের আলোকদিয়া চরে অবাধে বালু উত্তোলনে ফসলি জমি বসতভিটা হুমকির মুখে