সর্বশেষ

শিবালয় যমুনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনে হুমকিতে বসতভিটা জনপদ ও জাতীয় গ্রিড

নিজস্ব প্রতিবেদক

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার যমুনা নদীর দুর্গম আলোকদিয়া চর এলাকায় জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ারের সংলগ্ন নদী থেকে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন একাধিক ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয়দের দাবি,একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এ কার্যক্রম পরিচালনা করলেও কার্যকরভাবে তা বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে নদীর তীরবর্তী জনবসতি, কৃষিজমি, নদীভাঙন এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ,একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এ অবৈধ বালু উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অভিযোগ রয়েছে, এ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন প্রায় ৩০ লাখ টাকারও বেশি অবৈধ লেনদেন হয়। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার (২আগস্ট২৬)আলোকদিয়া চর এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে যমুনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ৮ থেকে ৯টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজারের মাধ্যমে নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করতে দেখা যায়। একই সময়ে প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি বাল্কহেডে বালু লোড করার দৃশ্যও দেখা যায়।সরেজমিনে আরও দেখা যায়,একটি স্পিডবোট ও একটি সেলো ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ১৫ থেকে ১৬ জন যুবক ড্রেজারগুলোর নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা সশস্ত্র এবং অত্যন্ত আক্রমণাত্মক আচরণ করছিলেন। তাদের দাবি, বহিরাগত এসব ব্যক্তিকে ভাড়া করে এনে অবৈধ বালু উত্তোলন কার্যক্রমে পাহারার কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, ড্রেজারসংলগ্ন এলাকায় বহিরাগত সশস্ত্র ব্যক্তিদের অবস্থানের কারণে সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ফলে কেউ সহজে সেখানে প্রবেশ করে তথ্য সংগ্রহ বা ভিডিওচিত্র ধারণ করতে সাহস পাচ্ছেন না। এছাড়া স্থানীয়দের অভিযোগ,প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমেই এ অবৈধ কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছে।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ মহিলা দলের সম্মেলন অনুষ্ঠিত

এবিষয়ে ফরিদপুর জোনের নৌপুলিশের এসপি রবিউল ইসলামের সরকারি মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিছিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে অনুসন্ধানে জানা যায়,শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিষা রানী কর্মকার অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,তিনি একাধিকবার ঝুঁকি নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও অভিযান চালিয়েছেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযানের পরও অবৈধ বালু উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন,অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুমোদন ছাড়া নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ (সংশোধিত)-এর বিধান লঙ্ঘনের শামিল। একই সঙ্গে এ ধরনের কর্মকাণ্ড নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ,পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর জন্য গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ, অবৈধ ড্রেজার জব্দ, অর্থদণ্ড এবং কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি,অবিলম্বে অবৈধ ড্রেজার জব্দ, জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। পাশাপাশি যমুনা নদী,জাতীয় গ্রিডের অবকাঠামো ও নদীতীরবর্তী জনপদের নিরাপত্তায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে সচেতন মহল আশা প্রকাশ করেন।

রৌমারী উপজেলার খনজনমারা ফুটবল টুর্নামেন্ট এর শুভ উদ্বোধন

ADVERTISEMENT

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত


সম্পাদক ও প্রকাশক : মাে:শফিকুল ইসলাম

কার্যালয় : ভাদাইল, ডিইপিজেড রোড, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা-১৩৪৯

যোগাযোগ: +৮৮০ ১৯১ ১৬৩ ০৮১০
ই-মেইল : dailyamaderkhobor2018@gmail.com

দৈনিক আমাদের খবর বাংলাদেশের একটি বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদ মাধ্যম। ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে দৈনিক আমাদের খবর, অনলাইন নিউজ পোর্টালটি সব ধরনের খবর প্রকাশ করে আসছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রচারিত অনলাইন সংবাদ মাধ্যমগুলির মধ্যে এটি একটি।

ADVERTISEMENT
×

নিউজ কার্ড প্রিভিউ (HTML Version)

News Image
০২ আগস্ট ২০২৬
Trulli

শিবালয় যমুনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনে হুমকিতে বসতভিটা জনপদ ও জাতীয় গ্রিড