মমহামান্য হাইকোর্টের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার যমুনা নদীর আলোকদিিয়া চর এলাকায় প্রকাশ্যেই চলছে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব। আদালতের নির্দেশনাকে কার্যত বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রভাবশালী একটি চক্রের অধীনে প্রতিদিন কোটি টাকার বালু বিক্রি হলেও স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চুপ বলে অভিযোগ উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দুর্গম আলোকদিয়া চরসংলগ্ন জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ারের খুব কাছ থেকে ১০টিরও বেশি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার দিয়ে দিন-রাত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এসব বালু পরিবহনে যমুনা নদীতে শত শত বাল্কহেডের অবস্থান দেখা গেছে। বালু উত্তোলনের ফলে গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ টাওয়ারগুলোর ভিত্তি চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে, যা যে কোনো সময় বড় ধরনের জাতীয় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে জানান, চরাঞ্চলের দুর্গমতার সুযোগ নিয়ে ‘শাহআলম বাহিনী’ নামের একটি সশস্ত্র গ্রুপ এলাকাটি পাহারা দেয়। ফলে সাধারণ মানুষ বা ভুক্তভোগীরা প্রতিবাদ করার সাহস পান না। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও কীভাবে একাধিক ড্রেজার ও শতাধিক বাল্কহেড সেখানে নির্বিঘ্নে চলে—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসানের ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাদের সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জেলা প্রশাসক মুঠোফোনের খুদে বার্তায় জানান যে তিনি মিটিংয়ে আছেন।
জাতীয় অবকাঠামো রক্ষা এবং নদীতীরের নদীভাঙন রোধে অবিলম্বে ওই এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে অবৈধ ড্রেজার জব্দ, সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হাইকোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।















