টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলে ধলেশ্বরী নদী পারাপারে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন কয়েক হাজার মানুষ। জীবিকার তাগিদে স্কুল-কলেজ, কর্মস্থল ও বিভিন্ন প্রয়োজনে নদী পার হতে গিয়ে নৌকার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে নৌকা চলাচলের কারণে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নদী পারাপারের জন্য একটি মাত্র খেয়াঘাট থাকায় সকাল ও ব্যস্ত সময়ে সেখানে যাত্রীদের ব্যাপক ভিড় জমে। অপেক্ষমাণ যাত্রীরা গাদাগাদি করে নৌকায় উঠতে বাধ্য হন। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে অনেক সময় নৌকায় দাঁড়ানোর মতো জায়গাও থাকে না। নৌকায় ওঠানামা ও পারাপারের সময় প্রায়ই ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে, এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
মাহমুদনগর ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, সকালে বাড়ি থেকে একটু দেরিতে বের হলে ঘাটে যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষা ও ভিড়ের মধ্যে পড়তে হয়। ফলে অনেক সময় স্কুল-কলেজ কিংবা কর্মস্থলে পৌঁছাতে দেরি হয়ে যায়। অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে নৌকা চলাচল করায় প্রতিবার নদী পার হওয়ার সময়ই আতঙ্কে থাকতে হয়।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, নৌকার ধারণক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনা না করেই মাঝিরা অনেক সময় অতিরিক্ত যাত্রী তুলতে থাকেন। এতে নদী পারাপার আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। দ্রুত একটি স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।
১২ নম্বর মাহমুদনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসলাম হোসেন শিকদার বলেন, ‘একটি মাত্র ঘাট দিয়ে হাজার হাজার মানুষের নদী পারাপার অত্যন্ত কষ্টকর। বিশেষ করে নদী পারাপারের জন্য যদি একটি সেতু নির্মাণ করা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।’
তিনি আরও বলেন, নদী পারাপারে ঝুঁকি ও ভোগান্তি দীর্ঘদিনের। ধলেশ্বরীর ওপর সেতু নির্মাণ করা হলে এলাকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে এবং প্রতিদিনের এই দুর্ভোগ থেকে দ্রুত মুক্তি মিলবে।স্থানীয়দের দাবি, সাময়িকভাবে নৌকা চলাচলের ব্যবস্থা থাকলেও ধলেশ্বরী নদীর ওপর স্থায়ী সেতু নির্মাণ ছাড়া এ অঞ্চলের মানুষের পারাপারের সমস্যা পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। তাই জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।













