স্থানীয় নির্বাচন অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন ও স্থানীয় সরকারের প্রশাসনিক কাঠামায় জরুরি কিছু সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের সেবা দিয়ে আসছেন চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্থানীয় বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কাজের সুষ্ঠু পরিচালনার স্বার্থে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীর নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করার দাবি তুলেছেন সুশীল সমাজ ও সচেতন নাগরিকবৃন্দ।
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউনিয়ন পরিষদের অধিকাংশ মেম্বার (সদস্য) প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় পিছিয়ে থাকলেও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার কারণে সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা ও এলাকার উন্নয়নে তারা ভূমিকা রাখতে অভ্যস্ত। মেম্বারদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সাধারণত জনমনে খুব একটা প্রশ্ন না উঠলেও সম্প্রতি চেয়ারম্যান পদের যোগ্যতা নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন বিচার-শালিস পরিচালনা করতে হয়,যেখানে তাদের বিচারিক (ম্যাজিস্ট্রেট) পাওয়ার প্রয়োগ করতে হয়। একটি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং নিরপেক্ষ বিচার সুনিশ্চিত করার জন্য চেয়ারম্যানকে কিছুটা হলেও শিক্ষিত হওয়া অতি প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একজন শিক্ষিত জনপ্রতিনিধি একদিকে যেমন জনগণের অভাব-অনটন ও দুর্দশা সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারেন, অন্যদিকে প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন করে আধুনিক ও টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে পারেন। সচেতন নাগরিক যখন সৎ ও শিক্ষিত প্রতিনিধি নির্বাচন করেন,তখন তা শাসনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনে এবং উপযুক্ত নেতৃত্ব গড়ে তুলতে সাহায্য করে।সংক্ষেপে,সঠিক ও শিক্ষিত ব্যক্তিকে নির্বাচিত করার এই নাগরিক সচেতনতাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে”সুনাগরিকের রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও সচেতন ভোটাধিকার”হিসেবে গণ্য করা হয়। সচেতন নাগরিকদের মতে,দীর্ঘকাল ধরে সেবা দিয়ে আসা অভিজ্ঞ জনপ্রতিনিধিরা প্রশংসনীয় হলেও,গ্রাম আদালত ও স্থানীয় প্রশাসনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে চেয়ারম্যান পদে শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত জুড় দেওয়া এখন সময়ের দাবি।













