মহামান্য হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশনা সত্ত্বেও মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার যমুনার দুর্গম আলোকদিয়া চরে থামছে না অবৈধ বালু উত্তোলন। জাতীয় গ্রিডের সঞ্চালন টাওয়ারের কাছাকাছি এলাকা থেকে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলনের ফলে গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ স্থাপনার নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আলোকদিয়া চর এলাকায় জাতীয় গ্রিডের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ারের কাছে যমুনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অন্তত ১০টি ড্রেজার দিয়ে তলদেশ থেকে বালু তোলা হচ্ছে। একই সাথে শতাধিক বাল্কহেড ব্যবহার করে সংগৃহীত বালু বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভৌগোলিক দুর্গমতার সুযোগ নিয়ে এলাকাটিকে নিরাপদ ঘাঁটি বানিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। বালু তোলার স্থানটিতে ‘শাহআলম বাহিনী’ নামে একটি চক্র সশস্ত্র অবস্থান নিয়ে পাহারা দেয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক থাকলেও নিরাপত্তার স্বার্থে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাননি।
বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ারের মতো স্পর্শকাতর জাতীয় সম্পদের এত কাছাকাছি অবাধে ড্রেজার চালিয়ে বালু তোলায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ বা নির্দেশনার পরও কেন বালু উত্তোলন বন্ধ করা যাচ্ছে না এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি কতটা কার্যকর, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সরকারি মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে কার্যালয়ের এক সহকারী কমিশনার জানান, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইতিপূর্বে একাধিকবার অভিযান চালিয়েছেন। সার্বিক পরিস্থিতি পুনর্নির্ধারণ করে জেলা প্রশাসককে বিষয়টি অবহিত করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অনতিবিলম্বে ড্রেজার ও বাল্কহেডগুলোর বৈধতা যাচাই, অবৈধ বালু মহাল পরিচালনার মূল হোতাদের চিহ্নিতকরণ এবং কথিত সশস্ত্র বাহিনীর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্তদের কোনো অবহেলা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

















