পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নসংলগ্ন পদ্মা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলে সরকারি বিধিবিধান উপেক্ষা করে দিন-রাত চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। একাধিক ড্রেজার বসিয়ে তোলা এসব বালু পরিপহন করা হচ্ছে শত শত বাল্কহেডে। তবে এই অবৈধ কারবারের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
গত ২১ ও (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬)সরেজমিনে চরতারাপুর, কলাবাগান, নিউচর পূর্বপাড়া ও বেলতলা পয়েন্টসহ নদীর বিভিন্ন এলাকায় ড্রেজার ও বাল্কহেডের মাধ্যমে ব্যাপকভিত্তিক বালু উত্তোলনের দৃশ্য চোখে পড়ে।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে,জোতকাকুরিয়া-কলাবাগান চর নদীপথ,গোহাইলবাড়ী, ভাদুরিয়াডাঙ্গী, নিউচর পূর্বপাড়া, চর ভবানীপুর, বেলতলা ও চরতারাপুর সীমান্তবর্তী এলাকা জুড়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রটি ড্রেজার পাহারা দিতে সশস্ত্র অবস্থায় স্পিডবোটে টহল দেয়। অসাধু কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ‘ম্যানেজ’ করেই তারা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, প্রশাসনের অভিযানের খবর আগেভাগেই চক্রটির কাছে পৌঁছে যায়, ফলে তারা কৌশল বদলে ড্রেজার ও বাল্কহেড সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পায়।
প্রশাসনের অভিযানের তথ্য ফাঁসের বিষয়টি পরোক্ষভাবে স্বীকার করেছেন পাবনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিটন ঢালি। তিনি বলেন, “দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় নদীপথে অভিযান পরিচালনায় নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। তদুপরি খবর আগে পৌঁছে যাওয়ার কারণে ড্রেজার সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয় এবং হাতেনাতে অপরাধীদের ধরা যায় না।” তবে দ্রুতই নৌপুলিশের সমন্বয়ে সেখানে বড় ধরনের যৌথ অভিযান চালানো হবে বলে জানান তিনি।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন’ অনুযায়ী অনুমোদনহীন বা শর্তভঙ্গ করে বালু তোলা দণ্ডনীয় অপরাধ। একই সাথে এতে ব্যবহৃত ড্রেজার ও নৌযান বাজেয়াপ্ত করার স্পষ্ট আইনি সুযোগ রয়েছে।
পদ্মা নদী থেকে এই অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে নদী ভাঙন,গতিপথ পরিবর্তন এবং পার্শ্ববর্তী কৃষিজমি ও জনপদ বিলীন হওয়ার চরম আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষ। অবিলম্বে এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থার জোর দাবি জানিয়েছেন ভূক্তভোগী এলাকাবাসী।


















