তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ছেড়ে দিলে চলবে না। পুলিশকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সাধারণ জনগণকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব।
আজ ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বাস্তবতায় পুলিশের সীমিত জনবল ও সম্পদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জনগণকেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগী ভূমিকা পালন করতে হবে। নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতা ও নাশকতার আশঙ্কায় তিনি স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে বিভিন্ন ইউনিয়নে বাজার ও সরকারি স্থাপনায় সতর্কতা জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও জানান। পাশাপাশি সম্ভাব্য নাশকতার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মাদক নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় হতে হবে। মাদকবিরোধী অভিযানকে আরও কার্যকর করতে আন্তঃজেলা সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে মাদক কারবারিদের চলাচল বন্ধে সংশ্লিষ্ট জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম প্রয়োজন।
তিনি বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান কোনো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করার বিষয় নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করতে হবে। চিহ্নিত মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে অন্যরাও নিরুৎসাহিত হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তথ্য দেয়ার ক্ষেত্রে তথ্যদাতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনেক পরিবার মাদকাসক্ত বা মাদক ব্যবসায় জড়িত স্বজনের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিতে ভয় পান। এ ক্ষেত্রে তথ্যদাতার পরিচয় ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
জুয়া প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চলমান কার্যক্রমের প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাফল্য ও কার্যক্রম জনগণের কাছে তুলে ধরতে গণমাধ্যমে নিয়মিত তথ্য প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে পর্যায়ক্রমে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। যেসব স্থানে ইতোমধ্যে সিসিটিভি স্থাপন করা হলেও তা অচল রয়েছে, সেগুলো দ্রুত সচল করার জন্য সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগী হতে হবে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ টেলিভিশনকে আরও আধুনিক, জনবান্ধব ও কার্যকর গণমাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সংসদ টেলিভিশনের সম্প্রচারে বক্তার নাম ও রাজনৈতিক দলের পরিচয় প্রদর্শন, সংসদে বিরোধী দলের বক্তব্য সম্প্রচারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিটিভির অনুষ্ঠান ও ব্যবস্থাপনায়ও পর্যায়ক্রমে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তিনি জানান, শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কুইজ প্রতিযোগিতা আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব আয়োজনে নান্দাইলের শিক্ষার্থীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, সরকারের কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডসহ জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করতে গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিলবোর্ড ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হবে। উপজেলা পর্যায়ে ডিজিটাল বিলবোর্ড স্থাপনের উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।
মিথ্যা তথ্য, অপতথ্য ও গুজব ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য প্রচারের আগে তার সত্যতা যাচাই করতে হবে। মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের মাধ্যমে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভা শেষে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংস, হাসপাতাল ও এর আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পরে তিনি নান্দাইলের স্থানীয় বাজারে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিতরণ করেন। এ সময় সাধারণ মানুষকে দোকানপাট, বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান।
নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমা জান্নাত-এর সভাপতিত্বে সার্কেল এসপি দেবাশীষ কর্মকার, নান্দাইল মডেল থানার ওসি মোঃ আজাহারুল ইসলাম, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।















