সর্বশেষ

ধর্ম-বর্ণের বিভেদ নয়, বাংলাদেশি পরিচয়ই হোক ঐক্যের ভিত্তি: ডেপুটি স্পিকার

অনলাইন ডেস্ক

 পাহাড়-সমতল, জাতি-গোষ্ঠী কিংবা ধর্মের ভিন্নতা বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি করতে পারে না। সবার পরিচয় বাংলাদেশি—এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

শুক্রবার রাজধানীর বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত ‘ঢাকা ওয়ানগালা-২০২৬’ উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কায়সার কামাল বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার, স্বাধীনতা ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করে একটি সাম্যভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। সব ধর্মের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নিজ নিজ ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চললে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য দেশের অন্যতম শক্তি। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং তাদের সংস্কৃতির বিকাশে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বারোপ

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিকাশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, দেশের বিভিন্ন শ্রেণি ও জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি বিকাশের লক্ষ্যে তাঁর উদ্যোগে ১০টি কালচারাল একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। এর মধ্যে নেত্রকোণার দুর্গাপুরে একটি কালচারাল একাডেমি রয়েছে।

৭ নভেম্বর: বাংলাদেশের নিজের পথ খুঁজে নেওয়ার দিন

তিনি জানান, এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ সময় বনানী এলাকায় একটি কালচারাল একাডেমি ও একটি গির্জা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

বড়দিন উদযাপনে ৩ কোটি টাকা অনুদান

আসন্ন বড়দিন উদযাপন উপলক্ষে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের জন্য সরকারের অনুদানের বিষয়টিও বক্তব্যে তুলে ধরেন কায়সার কামাল।

তিনি জানান, বড়দিন উদযাপনের জন্য খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ২ কোটি টাকা অনুদান চাওয়া হয়েছিল। পরে প্রধানমন্ত্রী আবেদন করা অর্থের চেয়ে ১ কোটি টাকা বেশি, অর্থাৎ ৩ কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, সব ধর্মের মানুষের প্রতি সহানুভূতি, মানবিক মূল্যবোধ এবং নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব।

গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের প্রত্যাশা

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা পেরিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করে কায়সার কামাল বলেন, অতীতের বিভেদ পেছনে ফেলে সব শ্রেণি, ধর্ম ও বর্ণের মানুষের অংশগ্রহণে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের মর্যাদা ও অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী

গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও সুপ্রতিষ্ঠিত করতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘ঢাকা ওয়ানগালা-২০২৬’-এর নকমা জন দ্রং। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ঢাকা ওয়ানগালার সাবেক নকমা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক দীপঙ্কর রিছিল।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার ওমর সাদাত, বাংলাদেশে ইউনেস্কোর আবাসিক প্রতিনিধি ড. সুজান ভাইজ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আন্দ্রিয় দ্রং, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির প্রিন্সিপাল অ্যাডভাইজার অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল কবিরসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ডেপুটি স্পিকার উৎসবের বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। আলোচনা পর্ব শেষে পরিবেশিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে গারো সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী অংশ নেন।

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

দৈনিক আমাদের খবর একটি বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদ ও জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো নির্ভুলতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

×

নিউজ কার্ড প্রিভিউ (HTML Version)

News Image
০৬ নভেম্বর ২০২৬
Trulli

ধর্ম-বর্ণের বিভেদ নয়, বাংলাদেশি পরিচয়ই হোক ঐক্যের ভিত্তি: ডেপুটি স্পিকার