মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার যমুনা নদীবেষ্টিত দুর্গম আলোকদিয়া চর এলাকায় হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অবাধে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। প্রভাবশালী একটি বালু মাফিয়া চক্র ৮ থেকে ৯টি ড্রেজার বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করে আসছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। এতে যমুনা নদীর ভাঙন তীব্র হয়ে দুর্গম চরাঞ্চলের জনবসতি, ফসলি জমির পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়েছে জাতীয় গ্রিডের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন।
সরেজমিনে (৫ অক্টোবর) আলোকদিয়া চর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ারের একেবারে কাছাকাছি এলাকা জুড়ে একাধিক ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। উত্তোলিত বালু পরিবহনের কাজে প্রতিদিন ওই এলাকায় বিপুলসংখ্যক বাল্কহেড চলাচল করছে এবং প্রকাশ্যেই চলছে বালু লোড-আনলোডের কাজ।
এলাকাবাসীর দাবি, আলোকদিয়া চরে অবৈধ বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ বন্ধ করে হাইকোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এমনকি এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসককে তদন্ত সাপেক্ষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আদালতের এমন কঠোর নির্দেশনার পরও বাস্তবে বন্ধ হয়নি বালু মাফিয়াদের এই তান্ডব।
নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারানো ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা জানান, এলাকাটি দুর্গম ও নদীবেষ্টিত হওয়ায় এখানে নিয়মিত প্রশাসনিক নজরদারি বেশ কম। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই বালু খেকোরা নিজেদের পকেট ভারী করছে। দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালনা করে ড্রেজার ও বাল্কহেড জব্দ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
হাইকোর্টের নির্দেশনা ও বালু উত্তোলনের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুন আরা সুলতানার সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
স্থানীয়দের প্রবল আশঙ্কা,অবৈধ এই বালু উত্তোলন অবিলম্বে বন্ধ করা না গেলে আসন্ন মৌসুমে যমুনার গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে একের পর এক বসতভিটা ও ফসলি জমি। একই সঙ্গে জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন বিদ্যুৎ অবকাঠামো ধসে পড়ে বড় ধরনের জাতীয় বিপর্যয় ঘটতে পারে।














