গত ৫ ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকার সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) বিতর্কিত ব্যক্তিবর্গের অনুপ্রবেশের অভিযোগ উঠেছে। বিগত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে হামলা ও একাধিক মামলার আসামিসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিএনপিতে যোগদানের ঘটনায় তৃণমূলের ত্যাগী কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে,সাভার,আশুলিয়া ও ধামরাইয়ের স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের কতিপয় অসাধু নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রছায়ায় এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দলে আশ্রয় ও পুনর্বাসন দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে হতাহতদের পরিবার চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, অন্যদিকে বিগত দেড় দশক ধরে মামলা-হামলা ও নির্যাতনের শিকার ত্যাগী ও পরীক্ষিত তৃণমূল কর্মীরা নিজেদের বঞ্চিত মনে করছেন।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে,যারা দীর্ঘ দিন সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে এবং গণঅভ্যুত্থানে সরাসরি ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত,তারা বিএনপি নেতাদের প্রভাবে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে। এতে সাধারণ মানুষের কাছে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে এ বিষয়ে এখনই কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সাময়িক ব্যক্তিস্বার্থ বা আর্থিক সুবিধায় অভিযুক্তদের আশ্রয় দিলে ভবিষ্যতে দলকে রাজনৈতিকভাবে মাশুল গুনতে হতে পারে। বিশেষ করে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এবং দলের স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখা প্রয়োজন।
যদিও দলের হাইকমান্ড পূর্বেই স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে,গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে কোনো চাঁদাবাজ,দখলদার বা অপকর্মে জড়িতদের বিএনপিতে স্থান দেওয়া হবে না। তবে মাঠপর্যায়ে কেন্দ্রীয় নির্দেশের যথাযথ প্রতিফলন ঘটছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ কর্মী ও সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে এই অনুপ্রবেশ বন্ধের পাশাপাশি যারা আর্থিক বা ব্যক্তিস্বার্থে এসব বিতর্কিত ব্যক্তিদের পুনর্বাসিত করছেন, তদন্ত সাপেক্ষে তাঁদের বিরুদ্ধেও দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। কেন্দ্রীয় সূত্রে জানা গেছে,বিএনপি’র চেয়ারম্যানের নির্দেশে, তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষমতার অপব্যবহার ও সুযোগসন্ধানীদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নজরদারি ও বিশেষ পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছে।
অর্থের বিনিময়ে বা ব্যক্তিগত স্বার্থে যাদের বিএনপিতে পদ-পদবি দেওয়া হয়েছে,তাদের তালিকা তৈরি ও তদন্ত প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে। ইতোমধ্যেই শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে বিতর্কিত ও সুবিধাভোগী বেশ কয়েকজন নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদানসহ পদ থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
দলের নীতিনির্ধারকদের স্পষ্ট বার্তা—কঠিন সময়ে নির্যাতন সহ্য করে যারা দল টিকিয়ে রেখেছেন, তাঁদের বঞ্চিত করে কোনো অনুপ্রবেশকারীকে সুযোগ দেওয়ার অবকাশ নেই। অতীতে দলের দুঃসময়ে অবদান রাখা ত্যাগী নেতাদের যোগ্য সম্মান ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে।
একই সাথে,তৃণমূলের পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের হতাশাগ্রস্ত না হয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতৃত্ব। নীতিনির্ধারকদের মতে, দলীয় এই শুদ্ধি অভিযানে ত্যাগী নেতাকর্মীদের সোচ্চার ভূমিকা রাখতে হবে, যাতে কষ্টার্জিত রাজনৈতিক সাফল্য কোনো সুযোগসন্ধানী চক্রের হাতে বিনষ্ট না হয়।














