সর্বশেষ

ইউপি নির্বাচনে বিএনপির মূল লক্ষ্য দলীয় ঐক্য ও একক প্রার্থী: শৃঙ্খলা ভঙ্গে কঠোর বার্তা

মোঃ মাইনুল ইসলাম

​আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় ঐক্য অটুট রাখা এবং প্রতিটি ইউনিয়নে একক প্রার্থী নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপ অনুযায়ী আগামী ২১ জানুয়ারি ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের মতামত, প্রার্থীর জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জয়ের সম্ভাবনাকে প্রাধান্য দিয়ে সর্বাত্মক নির্বাচনী প্রস্তুতি গ্রহণ করছে দলটি।

​তবে তৃণমূলের কোন্দল এড়ানো এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখাই বর্তমানে দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় নির্দেশনার বাইরে গিয়ে কেউ প্রাক-মনোনয়ন বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।

সাভার-ধামরাইয়ে বিএনপিতে নিষিদ্ধ আ”লীগ ‘অনুপ্রবেশের’অভিযোগ: তৃণমূলে ক্ষোভ ও অসন্তোষ

​একক প্রার্থী বাছাইতে তৃণমূলের মতামতে গুরুত্ব: কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের পাশাপাশি স্থানীয় বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রার্থী নির্বাচনের কৌশল নিয়েছে বিএনপি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রতিটি এলাকায় একজন যোগ্য প্রার্থী নিশ্চিত করার।
​বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের মতে, প্রার্থী মনোনয়নে কেবল অতীতের অবদান বা দলের পদমর্যাদাই একমাত্র মাপকাঠি হবে না। চূড়ান্ত মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রার্থীর বর্তমান জনসমর্থন, এলাকার মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা, বিগত দিনের ত্যাগ-তিতিক্ষা ও রাজনৈতিক ভূমিকাকে মূল অনুঘটক হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

​সাংগঠনিক পদ ও জনপ্রিয়তার ভারসাম্য: দলীয় সূত্রমতে, সাংগঠনিক পদমর্যাদা এবং স্থানীয় জনপ্রিয়তার মধ্যে একটি সমন্বিত ভারসাম্য আনার চেষ্টা চলছে। অনেক সময় পদে থাকা নেতার চেয়ে তৃণমূল পর্যায়ের কোনো কর্মী বা সমর্থক এলাকায় বেশি জনপ্রিয় হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে পদের চেয়ে প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনাকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে।
​বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ বিষয়ে বলেন:​”কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের বারবার বার্তা দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রতিটি এলাকায় একজন করেই প্রার্থী থাকেন। প্রার্থীর সাংগঠনিক দক্ষতার পাশাপাশি তাঁর জনসমর্থন যাচাই করা হচ্ছে। তবে দলের সিদ্ধান্ত না মেনে গায়ের জোরে কেউ প্রার্থী হতে চাইলে তাঁকে পরিণতি সম্পর্কে ভাবতে হবে। শৃঙ্খলাভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে দল কঠোর আইনি ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।”

মধ্যরাতে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

​মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া থেকে বিরত রেখে দলীয় ঐক্য ধরে রাখাই বিএনপির মূল কৌশল। নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং মাঠপর্যায়ের ঐকমত্যের সঠিক বাস্তবায়নই ইউপি নির্বাচনে বিএনপির সাফল্য নির্ভর করছে। দলটির লক্ষ্য একদিকে যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচন এবং অন্যদিকে সুদৃঢ় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে নির্বাচনী মাঠে ইতিবাচক ফলাফল অর্জন করা।

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

দৈনিক আমাদের খবর একটি বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদ ও জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো নির্ভুলতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

×

নিউজ কার্ড প্রিভিউ (HTML Version)

News Image
১৬ অক্টোবর ২০২৬
Trulli

ইউপি নির্বাচনে বিএনপির মূল লক্ষ্য দলীয় ঐক্য ও একক প্রার্থী: শৃঙ্খলা ভঙ্গে কঠোর বার্তা