মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার তেওতা(৩ ফেব্রুয়ারি ২৬) মঙ্গলবার সরজমিনে দেখা যায়,আলোকদিয়ার চড় ও দৌলতপুর উপজেলার চর বাঘুটিয়া এলাকায় যমুনা নদীতে অবস্থিত জাতীয় গ্রিডের পিলার সংলগ্ন স্থানে প্রকাশ্যে ও ভয়াবহভাবে অবৈধ বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ বালু মাফিয়া চক্র। সশস্ত্র পাহারায় পরিচালিত এই অবৈধ কার্যক্রমে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, শিবালয় ও দৌলতপুর উপজেলার চিহ্নিত বালু মাফিয়া চক্রের মূল হোতা হিসেবে পরিচিত মোস্তাফিজুর রহমান প্রিন্সের নিয়ন্ত্রিত লোকজনই দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তারা কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই ভারী ড্রেজার, এক্সকাভেটর ও আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে জাতীয় গ্রিডের পিলার ও সঞ্চালন লাইনের একেবারে নিকটবর্তী এলাকা থেকে নির্বিচারে বালু উত্তোলন করছে।
উল্লেখ্য, জাতীয় গ্রিড রাষ্ট্রের একটি কী (Key) অবকাঠামো হিসেবে বিবেচিত। এর আশপাশে এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বালু উত্তোলনের ওপর মহামান্য হাইকোর্টের সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। পাশাপাশি বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী লাইসেন্স ছাড়া এবং নিষিদ্ধ এলাকায় বালু উত্তোলন একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ, যার জন্য জেল ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। কিন্তু এসব আইন ও আদালতের নির্দেশনাকে প্রকাশ্যে উপেক্ষা করে বালু মাফিয়া চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জাতীয় গ্রিডের সঞ্চালন লাইন ও পিলারের কাছ থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্রীমতি মণিষা রানী কর্মকার এবং দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিয়ান নুরেন-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তারা গণমাধ্যমকে জানান,“জাতীয় গ্রিডের আশপাশে অবৈধ বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, অব্যাহত অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে তেওতা এলাকায় জাতীয় গ্রিডের একাধিক পিলার ইতোমধ্যে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। একই সঙ্গে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হওয়ায় নদীভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। এতে কয়েক শতাধিক বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেকোনো সময় যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় গ্রিডের পিলার ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধু স্থানীয় নয়, বরং জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থায় ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে, যা দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।
এমন পরিস্থিতিতে অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে জড়িত বালু মাফিয়া চক্রের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ, যৌথ বাহিনীর অভিযান এবং বালু মাফিয়া চক্রের মূল হোতাসহ জড়িত সকলের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।











