দীর্ঘ ১২ বছর পর পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়নের বহুল আলোচিত মনির মৃধা হত্যা মামলাটি নতুন ভাবে মোড় দিয়ে উঠেছে। মামলার প্রধান আসামি বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালেব হাওলাদার ও তার ছেলে পটুয়াখালী জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদ হাসান সহ অন্যান্য পলাতক সকল আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন বিজ্ঞ আদালত।
গত বুধবার (৩০ এপ্রিল ২০২৬) পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আমলী আদালতের বিচারক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গ্রহণ করে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ৫ আগস্ট পটুয়াখালী-২ আসনের তৎকালীন বিএনপি-সমর্থিত সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদারের ঈদ শুভেচ্ছা পোস্টারকে কেন্দ্র করে বগা ইউনিয়নে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালেব হাওলাদারের অনুসারীরা বগা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মনির মৃধা এবং তার শ্যালক বগা ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা মুহাম্মাদ জাকির হুসাইনের ওপর হামলা চালায়।
ওই সময় গুরুতর আহত অবস্থায় মনির মৃধাকে ঢাকায় নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ আগস্ট (ঈদুল ফিতরের দিন) তিনি মারা যান।
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে দাফনের পর মামলা দায়ের করা হলেও দীর্ঘ সময় ধরে বিচার প্রক্রিয়া এগোয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। পরবর্তীতে মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হলে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর তদন্ত শেষে সিআইডি পুলিশের ইন্সপেক্টর কাজী মাহমুদুল হাসান ১৯ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
চার্জশিটে প্রধান আসামি করা হয় বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালেব হাওলাদারকে। তার ছেলে, পটুয়াখালী জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদ হাসানসহ অন্যদেরও আসামি করা হয়। চার্জশিট গ্রহণের পর আদালত পলাতক সকল আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয় জনগণ এ সিদ্ধান্তকে ন্যায়বিচারের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। তারা দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
নিহতের স্বজনরা বলেন, “দীর্ঘ ১২ বছর ৮ মাস ২৫ দিন পর হলেও আমরা কিছুটা আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। এখন দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করে বিচার সম্পন্ন করা হোক।”
বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন বলেন, গ্রেফতারি পরোয়ানা দ্রুত বাস্তবায়ন করে আসামিদের আদালতে হাজির করা গেলে মামলার বিচার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।










