টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ জেলার বিস্তীর্ণ যমুনা চরাঞ্চল বর্তমানে এক ভয়াবহ সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ,‘বাপ্পি’ নামে এক সশস্ত্র সন্ত্রাসীর দৌরাত্ম্যে নাজেহাল হয়ে পড়েছেন নদীতীরবর্তী হাজারো মানুষ। অবৈধ বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজি, অপহরণ, ডাকাতি ও সংঘবদ্ধ সহিংসতায় দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় এই চক্র।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বাপ্পি একজন সাবেক আন্তজেলা চরমপন্থী দলের নেতা এবং হত্যা সহ একাধিক মামলার আসামি। ২০২৩ সালে র্যাব-১২ এর কাছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণের পর কিছুদিন নীরব থাকলেও, পুনরায় তার পুরনো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে।
তার প্রধান সহযোগী ‘রকি’সহ একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী দল যমুনা নদীপথে আধিপত্য বিস্তার করে চলেছে।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় বাপ্পি ও তার সহযোগীরা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা যমুনার বিভিন্ন চরাঞ্চলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে এবং এলাকাবাসীর ওপর ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত একাধিক ঘটনায় দেখা গেছে, বাপ্পি প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে প্রতিপক্ষ ও সাধারণ মানুষকে হুমকি দিচ্ছে। সর্বশেষ ২৮ ও ২৯ এপ্রিল রাতে টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন চরাঞ্চলে অবৈধ বালু উত্তোলনের সময় স্থানীয়রা বাধা দিলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কয়েকজনকে অস্ত্র ঠেকিয়ে জিম্মি করে মারধর করা হয় এবং তাদের ব্যবহৃত নৌকাও ডুবিয়ে দেওয়া হয়।
এতসব ঘটনার পরও স্থানীয় প্রশাসন, বিশেষ করে নৌপুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
এ বিষয়ে নৌপুলিশ সুপার মোঃ সোহেল মাহমুদ গণমাধ্যমকে জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
তবে সচেতন মহলের প্রশ্ন—অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের মুখোমুখি অবস্থানে থাকা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে প্রশাসন কতদিন দায় এড়িয়ে যাবে? দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে যমুনা তীরবর্তী জনপদে বড় ধরনের সংঘাত বা প্রাণহানির আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।










