খন্দকার মোহাম্মাদ আলী:
একটি স্বাধীন দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণমানুষের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ প্রহরীর ভূমিকা পালন করে গণমাধ্যম। গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়। সচেতন মহল এটিকে সমাজের আয়না বা দর্পণ হিসেবেও বিবেচনা করে। সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল পেশা; এটি শুধুমাত্র প্রদর্শনের বিষয় নয়। দক্ষতা, সততা, সাহস, প্রজ্ঞা ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে এই পেশার গভীরতা ও দর্শন বিকশিত হয়।
তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের শহরাঞ্চল থেকে শুরু করে সিরাজগঞ্জ জেলার উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় সেই দায়িত্বশীল চর্চা সবসময় দৃশ্যমান নয়। অনৈতিকভাবে বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তি ব্যক্তিগত সুনাম অর্জনের লক্ষ্যে সাংবাদিকতার পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। এক যুগ আগেও এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এতটা দৃশ্যমান ছিল না, যা বর্তমানে ক্রমেই বাড়ছে।
দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অসংখ্য ব্যক্তি হঠাৎ করেই সাংবাদিকতার পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। তাদের অনেকের মূল উদ্দেশ্য সাংবাদিকতার অর্জিত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা, প্রবীণ সাংবাদিকদের সম্মানহানি ঘটানো এবং পেশিশক্তির অপব্যবহার করা। শিক্ষাগত যোগ্যতার দোহাই দিয়ে অপেশাদার ও বিকৃত মানসিকতার ব্যক্তিদের সংখ্যা বাড়ছে, যা গণমাধ্যমে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে।
সমাজের দর্পণ হিসেবে গণমাধ্যমের সামনে যখন অপরাধীরা দাম্ভিকতার সঙ্গে বিচরণ করছে, তখন নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। বর্তমানে ফেসবুক পেজভিত্তিক সংবাদ প্রচার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। যে যার মতো করে সংবাদ পরিবেশন করছে, যা অনেক ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাইবিহীন এবং বিভ্রান্তিকর।
এমন পরিস্থিতিতে প্রবীণ সাংবাদিক ও পেশার প্রকৃত ধারক-বাহকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সমাজের স্বার্থে তাদের সক্রিয় ভূমিকা কতটা দৃশ্যমান, তা সাধারণ মানুষের জানার বিষয়। কেন তারা নিরব, নিরাশ বা নিরুপায়—সেটিও আলোচনার দাবি রাখে। প্রয়োজন অনুযায়ী অপসাংবাদিকতা ও পেশাগত অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
কিছু প্রবীন সাংবাদিক একান্ত সাক্ষাতে বলেন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অপেশাদার ব্যক্তিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন পেশার আড়ালে কিছু ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক দলের কিছু ক্যাডার বা চিহ্নিত সন্ত্রাসীরাও সাংবাদিক পরিচয়ে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফলে প্রকৃত সাংবাদিকরা অনেক সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ব্যক্তি অর্থের বিনিময়ে সাংবাদিক পরিচয়পত্র বা আইডি কার্ড বিক্রি করছেন, যা পেশাটির শৃঙ্খলা ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে। অতীতের গণমাধ্যম পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে বর্তমান সময়ে ফেসবুকনির্ভর সংবাদ প্রচারের লাগাম টেনে দায়িত্বশীল ও শৃঙ্খলাবদ্ধ সাংবাদিকতা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বর্তমানে মফস্বল সাংবাদিকতায় নীতিনৈতিকতার অবক্ষয় কালবৈশাখী ঝড়ের মতো প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমের সুনামকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। প্রকৃত সাংবাদিকরা এ বাস্তবতায় হতবাক হয়ে পড়ছেন। অনেক নবাগত ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে ফেসবুক পেজে নিজস্ব কণ্ঠে সংবাদ প্রচার করছেন। ভিডিও সম্পাদনা করে মাল্টিমিডিয়া সংবাদ হিসেবে বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করার ঘটনাও বাড়ছে।
এবিষয়ে উন্নয়ন অনুসন্ধান ফাউন্ডেশনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদক ও সচেতন মহলের মতে, এসব কর্মকাণ্ড সমাজে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।










