চলতি বছরের গত ১২-০৩-২০২৬ ইং রাত সাড়ে ১২টার পর পটুয়াখালীর বড় বিঘাই ইউনিয়নের কেওয়াবুনিয়া এলাকায় একটি স্বর্ণের দোকানের টিনের চাল কেটে ভিতরে ঢুকে দোকান থেকে ০৮ ভরি স্বর্ণালংকার এবং ১৫০ ভরি রুপার অলংকার চুরির ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী সঞ্জয় কর্মকার বাদী হয়ে পটুয়াখালী সদর থানায় এজাহার দায়ের করেন। যাহার মামলা নং-৬০, তারিখঃ ৩০-০৪-২০২৬ খ্রিঃ, ধারা-৪৫৭/৩৮০ পেনাল কোড রুজু হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ সুপার, পটুয়াখালীর দিকনির্দেশনা ও সার্বিক তদারকিতে পটুয়াখালী সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলসহ বড় বিঘাই ইউনিয়নের বিভিন্ন গোপন তথ্য, উপাত্ত, সিসি ফুটেজ সংগ্রহ পূর্বক পর্যালোচনা করে মূল আসামিদের সনাক্ত করতে সক্ষম হন।
পরবর্তীতে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশের অভিযানে এ ঘটনায় জড়িত আসামি ১। মোঃ সোহেল হাওলাদার (৩২) কে গত ০১-০৫-২০২৬ ইং পটুয়াখালী থানা এলাকা থেকে ও আসামি ২। মোঃ আজাহার আলী ওরফে সোহেল কে গত ০৭-০৫-২০২৬ খ্রিঃ ইং ডিএমপির কাফরুল থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা সহ তাদের থেকে চোরাইকৃত ০২ ভরি ০৪ আনা স্বর্ণলংকার, ৮২ ভরি রুপার অলংকার উদ্ধার করা হয়।
মামলার বাদীর কাছ থেকে জানা যায় যে, পটুয়াখালীর বড়বিঘাই ইউনিয়নের কেওয়াবুনিয়া এলাকায় তাদের লোকনাথ জুয়েলার্স নামক একটি জুয়েলারি দোকান আছে। গত ইং ১২-০৩-২০২৬ ইং রাত অনুমান ১২.৩০ ঘটিকার সময় তার বাবা উক্ত জুয়েলারী দোকানটি বন্ধ করে বাড়িতে যায়। একই তারিখ সকাল অনুমান ০৮:০০ ঘটিকার সময় বাদীর পিতা দোকানে গিয়ে দেখতে পান দোকানের ভিতরের আসবাবপত্র ভাংচুর করা অবস্থায় এলোমেলো ভাবে ছড়ানো ছিটানো এবং দোকানের উপরের টিনের চাল কাটা। পরবর্তীতে বাদীর পিতা দোকানে থাকা ০৮ ভরি স্বর্ণালংকার, ১৫০ ভরি রুপার অলংকার এবং দোকানের ক্যাশ বক্সে থাকা ২৮,৭০০/-টাকা দেখতে না পেয়ে স্থানীয়দের জানান। পরে ঘটনার খবর পেয়ে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার একাধিক টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ পূর্বক তা পর্যালোচনা, বিভিন্ন গোপন তথ্য সংগ্রহ, এলাকার পারিপার্শ্বিক অবস্থা, প্রযুক্তিগত উপায়ে বিশ্লেষণ করে চুরির ঘটনায় চোর মোঃ সোহেল হাওলাদারের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়।
তারই ধারাবাহিকতায় গত ০১-০৫-২০২৬ খ্রিঃ মোঃ সোহেল হাওলাদারকে পটুয়াখালী থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার বাসা থেকে ০১ ভরি ০২ আনা ০৪ রতি স্বর্ণ ও ৫৪ ভরি ১৫ আনা রুপা উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি মোঃ সোহেল হাওলাদার বর্ণিত জুয়েলারি দোকানের স্বর্ণ চুরি করার কথা স্বীকার করে এবং চোরাইকৃত বাকি মালামাল ডিএমপি এর কাফরুল থানা এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী আসামি মোঃ আজাহার আলী ওরফে সোহেল এর নিকট বিক্রয় করেছে বলে জানায়। পরবর্তীতে আসামি সোহেল হাওলাদারকে নিয়ে কাফরুল থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসামি মোঃ আজাহার আলী ওরফে সোহেলকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার নিকট হতে ০১ ভরি ০২ আনা স্বর্ণ ও ২৭ ভরি রুপা উদ্ধার করা হয়।
এবিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল ঘটনার স্বত্যতা জানিয়ে বলেন- বর্তমানে মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে এবং এ ঘটনার সাথে অন্য কোন ব্যক্তি বা সহায়তাকারী জড়িত আছে কিনা তা নিরূপণে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা সহ যে বা যারাই এই অপরাধে জড়িত থাকুক না কেন, তাদেরকে চিহ্নিত করে গ্রেফতারপূর্বক আইনের আওতায় আনার জন্য জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।











