মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের আলোকদিয়া চর এলাকায় যমুনা নদীতে জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ার সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, জনবসতি,বসতভিটা ও ফসলি জমির নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলেও একটি প্রভাবশালী চক্র প্রকাশ্যে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
মানববন্ধন বিভিন্ন অভিযোগ সহ নানা প্রতিবাদের পরও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে। সোমবার (২২ জুন ২৬ ইং) সরেজমিনে আলোকদিয়া চর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, যমুনা নদীর তীরবর্তী অংশে অন্তত ৫ থেকে ৬টি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেজারগুলো জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ার, বসতবাড়ি এবং আবাদি জমির নিকটবর্তী এলাকায় পরিচালিত হচ্ছে। এতে নদীভাঙনের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং জাতীয় গ্রিডসহ স্থানীয় জনবসতি রক্ষার দাবিতে সম্প্রতি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এরপরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো অভিযান বা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, “অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তীর ভাঙনের আশঙ্কা বাড়ছে। জাতীয় গ্রিডের টাওয়ার, বসতবাড়ি ও কৃষিজমি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। মানববন্ধনের মাধ্যমে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় মনে হচ্ছে বালুমাফিয়ারা আইনের ঊর্ধ্বে অবস্থান করছে।”অভিযোগ রয়েছে,অবৈধ বালু উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালনাকারী চক্রের পক্ষে কিছু সশস্ত্র যুবক পাহারার দায়িত্ব পালন করছে, ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতেও ভয় পাচ্ছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সরকারি মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান গণমাধ্যমকে জানান, “অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়টি জেলা প্রশাসক অবগত আছেন। ইজারাকৃত এলাকার বাইরে যেকোনো ধরনের অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে,বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ (সংশোধিত) অনুযায়ী অনুমোদিত ইজারাকৃত এলাকা ব্যতীত বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ। একই সঙ্গে সেতু, বাঁধ, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা, বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো এবং জনবসতির নিকটবর্তী এলাকায় বালু উত্তোলনের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানা, কারাদণ্ড, ড্রেজার জব্দ এবং অন্যান্য দণ্ডনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন,রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ারের নিকটে প্রকাশ্যে একাধিক ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন চললেও কেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো কার্যকর অভিযান পরিচালনা করতে পারেনি। এলাকাবাসী দ্রুত অভিযান চালিয়ে অবৈধ ড্রেজার জব্দ, দায়ীদের গ্রেপ্তার এবং নদী ও জনবসতি রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।














