মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার দুর্গম আলোকদিয়া চর এলাকায় যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের পাহারায় একাধিক উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহন। এতে হুমকির মুখে পড়েছে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি ও হাজার হাজার বিঘা কৃষিজমি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিবালয় উপজেলার যমুনার দুর্গম আলোকদিয়া চর এলাকায় জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ারের কাছাকাছি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বালু উত্তোলন করছে একটি চক্র। এলাকাবাসীর দাবি, কয়েকটি ড্রেজার দিয়ে দিন-রাত বালু তোলা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
সরেজমিন অনুসন্ধানে (৪ আগস্ট ২০২৬) আলোকদিয়া চর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীতে কয়েকটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার স্থাপন করে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক বাল্কহেডে বালু লোড-আনলোড করতে দেখা যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় কয়েকটি ছোট নৌযানে অবস্থানরত ১০ থেকে ১২ জন যুবককে পাহারারত অবস্থায় দেখা যায়, যাদের কাছে অস্ত্র থাকার অভিযোগ করেছেন তারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ,দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি না থাকায় বালু উত্তোলনকারী চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, নৌপুলিশের কিছু সদস্যের সঙ্গে বালু ব্যবসায়ী চক্রের গোপন যোগসাজশ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে তারা একাধিকবার মানববন্ধন করেছেন এবং মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করলে চক্রের সদস্যদের পক্ষ থেকে হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়। এমনকি সম্প্রতি প্রতিবাদ করায় এক ব্যক্তিকে অস্ত্রধারী একটি দলের সদস্যরা বাঘুটিয়া বাজার এলাকা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।স্থানীয়দের আশঙ্কা,এভাবে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে নদীভাঙন বৃদ্ধি পেয়ে বসতবাড়ি, কৃষিজমি এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুল আরা সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর প্রশ্ন, বারবার অভিযোগ ও প্রতিবাদ কর্মসূচির পরও কেন অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না? প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা, নাকি কোনো প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় চলছে এই অবৈধ কার্যক্রম—এ নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি,দ্রুত যৌথ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।















