টঙ্গী ও আশপাশের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবাধে চলছে অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান ও থ্রি-হুইলার। ট্রাফিক নিয়ম না মেনে বেপরোয়া গতি ও উল্টো পথে চলাচলের কারণে মহাসড়কে ছোট-বড় দুর্ঘটনা সহ নিত্যদিনের যানজট সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রাইভেট কারসহ অন্যান্য দ্রুতগতির যানবাহনের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগীরা।
টঙ্গীর বাসিন্দা নূরুল ইসলাম মহাসড়কের বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে বলেন, “অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত এসব ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান মহাসড়কে প্রাইভেট কার ও ছোট যানবাহনের চলাচলকে চরম ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। বলা চলে এগুলো প্রাইভেট কারের বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছে। কোনো ধরনের ট্রাফিক নিয়ম না মেনে হঠাৎ মূল সড়কে চলে আসায় প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। অনতিবিলম্বে মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত এসব যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করা উচিত।”
স্থানীয় চালক ও পথচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ বা বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই চালকরা ডানে-বামে না তাকিয়ে হুটহাট লেন পরিবর্তন করে। ব্রেক ও যান্ত্রিক দুর্বলতা থাকার পরও মহাসড়কের দ্রুতগতির বাস ও প্রাইভেট কারের সাথে পাল্লা দিয়ে এসব যানবাহন চালানো হয়। এর ফলে প্রাইভেট কার চালকদের জরুরি ব্রেক কষতে গিয়ে পেছনে গাড়ি এসে ধাক্কা লাগার মতো ঘটনা ঘটছে অহরহ।
পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহাসড়কে ধীরগতির ও কম ওজনের যানবাহন চলাচলের ওপর সরকারের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অথচ তোয়াক্কা না করে টঙ্গী ও এর আশপাশের সংযোগ সড়ক থেকে মূল মহাসড়কে অবাধে উঠে আসছে হাজার হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোভ্যান।
এ অবস্থায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং প্রাইভেট কার ও দূরপাল্লার যানবাহনের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে হাইওয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের নিয়মিত কঠোর অভিযানের দাবি জানিয়েছেন নূরুল ইসলামসহ টঙ্গীর সচেতন মহল।

















