সর্বশেষ

ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদের ভিসা না দেওয়ার যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান ইইউ’র

অনলাইন ডেস্ক

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদেরকে ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে পুনর্বিবেচনা করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

যুক্তরাষ্ট্র টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এ প্রতিনিধি দলে ফিলিস্তিনি নেতা মাহমুদ আব্বাসও রয়েছেন। আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

ইইউর কূটনৈতিক বিভাগের মুখপাত্র আনোয়ার এল আনুনি শনিবার বলেন, ‘টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের প্রবেশ ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্তে আমরা দুঃখিত।’

আইএইএর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, পারমাণবিক অবস্থান নিয়ে অনড় উত্তর কোরিয়া

তিনি বলেন, জাতিসংঘের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান সদর দপ্তর-সংক্রান্ত চুক্তি ও আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্বের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা উচিত। গত বছরও ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি দলকে ভিসা দেয়নি। এর ফলে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের নিয়মিত বক্তা মাহমুদ আব্বাসকে ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে বক্তব্য দিতে হয়েছিল।

এ বছরও আব্বাসকে ভার্চুয়ালি সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ১৫২-৩ ভোট পড়ে। বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতিসংঘে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি মিশনের সদস্যরাই কেবল আগামী মঙ্গলবার থেকে শুরু হতে যাওয়া সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সরাসরি অংশ নিতে পারবেন।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এই সিদ্ধান্তের কারণে ‘জাতিসংঘের কার্যক্রমে পূর্ণাঙ্গভাবে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের সক্ষমতা’ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তিনি উদ্বিগ্ন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) দীর্ঘদিনের একটি নীতির বিরোধিতা করে আসছে। ওই ব্যবস্থার আওতায় কারাগারে থাকা বা নিহত ফিলিস্তিনিদের পরিবারের জন্য অর্থ প্রদান করা হতো।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অভিযোগ, হামলা চালানো ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরাও এই অর্থ পেতেন।

তানজানিয়ার পতাকাবাহী জাহাজে রুশ হামলায় ক্যাপ্টেন নিহত

সম্প্রতি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ওই ব্যবস্থা সংস্কার করেছে। নতুন ব্যবস্থায় রাজনৈতিক পরিচয় বা কারাগারে থাকার বিষয়টির পরিবর্তে পরিবারের আর্থিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে কল্যাণমূলক সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, তারা ফিলিস্তিনিদের এমন কিছু পদক্ষেপেরও বিরোধিতা করে, যার মাধ্যমে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) মাধ্যমে পদক্ষেপ নেওয়া এবং আলোচনার বাইরে গিয়ে একতরফাভাবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা রয়েছে বলে ওয়াশিংটন উল্লেখ করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অভিযোগ, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এখনও ‘সন্ত্রাসীদের ভাতা প্রদান’ এবং সরকারি বক্তব্য ও স্কুলের পাঠ্যবইয়ে ‘সন্ত্রাসী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মহিমা প্রচার’ করে চলেছে।

ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জাতিসংঘের অধিকাংশ সদস্যরাষ্ট্রের মতপার্থক্য রয়েছে। গত বছর জাতিসংঘে ১৪২টি সদস্যরাষ্ট্র ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। মাহমুদ আব্বাসকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশ ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরইয়লি বসতি স্থাপনকারীদের হাতে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

দৈনিক আমাদের খবর একটি বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদ ও জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো নির্ভুলতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

×

নিউজ কার্ড প্রিভিউ (HTML Version)

News Image
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Trulli

ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদের ভিসা না দেওয়ার যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান ইইউ’র