সর্বশেষ

শিবালয়ে বেপরোয়া বালু মাফিয়া,অবৈধ উত্তোলনে বিলুপ্তির পথে আলোকদিয়া চর

নিজস্ব প্রতিবেদক

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার যমুনা নদীর দুর্গম চরাঞ্চল আলোকদিয়ায় দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে কথিত বালু মাফিয়া চক্র।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সশস্ত্র পাহারায় দেশের প্রচলিত আইন অমান্য করে দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বালু উত্তোলনের ফলে আলোকদিয়া চরসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে জনবসতি, কৃষিজমি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে আলোকদিয়া চর বিলুপ্তির পথে চলে গেলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

রৌমারীতে কিশোর-কিশোরীদের দক্ষ ও সচেতন নাগরিক গড়ে তুলতে (সিএমসি) সভা অনুষ্ঠিত

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, আজবৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট২৬) সকাল ৮টা ৪৫ মিনিট থেকে শিবালয় উপজেলার যমুনার দুর্গম আলোকদিয়া চর এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ারসংলগ্ন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অন্তত ছয়টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। উত্তোলিত বালু শতাধিক বাল্কহেডে লোড-আনলোড করা হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে সশস্ত্র ব্যক্তিদের পাহারায়, ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ জানাতে সাহস পাচ্ছেন না।

এলাকাবাসীর দাবি,একাধিকবার লিখিত অভিযোগ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হলেও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর অভিযান পরিচালিত হয়নি। ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের পাশাপাশি তীব্র ভাঙনে বসতভিটা, ফসলি জমি এবং জনজীবন হুমকির মুখে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে,নদীর তীর, জনবসতি, সেতু, বাঁধ, বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ার বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিকট থেকে অনুমোদনবিহীনভাবে বালু উত্তোলন শুধু পরিবেশের জন্য নয়, জননিরাপত্তার জন্যও মারাত্মক হুমকি। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী নির্ধারিত এলাকা ও সরকারি অনুমোদন ব্যতীত বালু বা মাটি উত্তোলন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা, অর্থদণ্ড, কারাদণ্ড, অবৈধ ড্রেজার ও যন্ত্রপাতি জব্দসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে। এছাড়া জননিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোর ঝুঁকি সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপেরও আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত সহস্রাধিক

প্রশাসনের বক্তব্য,অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামরুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, “অবৈধ বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রশাসনের এমন নির্দেশনার পরও যদি প্রকাশ্যে একাধিক ড্রেজার দিয়ে দিনের পর দিন বালু উত্তোলন চলতে থাকে,তাহলে আইনের বাস্তব প্রয়োগ কোথায়?স্থানীয়দের দাবি,আলোকদিয়া চরবাসীর দাবি, অবিলম্বে অবৈধ ড্রেজার উচ্ছেদ, জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নদীভাঙন রোধে জরুরি কার্যক্রম গ্রহণ করা হোক। অন্যথায় যমুনার ভয়াল ভাঙনে আলোকদিয়া চরসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা মানচিত্র থেকেই বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

ADVERTISEMENT

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত


সম্পাদক ও প্রকাশক : মাে:শফিকুল ইসলাম

কার্যালয় : ভাদাইল, ডিইপিজেড রোড, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা-১৩৪৯

যোগাযোগ: +৮৮০ ১৯১ ১৬৩ ০৮১০
ই-মেইল : dailyamaderkhobor2018@gmail.com

দৈনিক আমাদের খবর বাংলাদেশের একটি বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদ মাধ্যম। ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে দৈনিক আমাদের খবর, অনলাইন নিউজ পোর্টালটি সব ধরনের খবর প্রকাশ করে আসছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রচারিত অনলাইন সংবাদ মাধ্যমগুলির মধ্যে এটি একটি।

ADVERTISEMENT
×

নিউজ কার্ড প্রিভিউ (HTML Version)

News Image
০৫ আগস্ট ২০২৬
Trulli

শিবালয়ে বেপরোয়া বালু মাফিয়া,অবৈধ উত্তোলনে বিলুপ্তির পথে আলোকদিয়া চর